৭ জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু
দেশের সাত জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আজ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জে পাঁচজন, রংপুর ও ময়মনসিংহে দুইজন করে এবং হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট ও কিশোরগঞ্জে একজন করে মারা যান।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে আজ শনিবার বিকেলে জেলার চারটি উপজেলায় বোরো ধান কাটা ও শুকানোর সময় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে চারজন হাওর এলাকায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হন, আরেকজন বাড়ির পাশে ধান শুকানোর সময় মারা যান।
ধর্মপাশা উপজেলায় পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বরাইহাটি গ্রামের কাছে টগর হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় হাবিবুর রহমানের।
একই উপজেলার আরেক ঘটনায় জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকানোর সময় রহমত উল্লাহ মারা যান।
এ ঘটনায় তার বাবা জয়নাল হক ও আরেক স্থানীয় নারী শিখা মনি গুরুতর আহত হন।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদ উল্লাহ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলায় সদর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের নুরুজ্জামান পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল গুরুতর আহত হয়েছেন।
জামালগঞ্জ থানার ওসি মো. বান্দে আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তাহিরপুর উপজেলায় মাতিয়ান হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতের আঘাতে কৃষক আবুল কালাম মারা যান বলে জানান তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।
এদিকে, দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা হাওরে ধান কাটার সময় লিটন মিয়া বজ্রপাতে মারা যান বলে জানান তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।
ময়মনসিংহ
আজ বিকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়।
তারা হলেন—গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের কৃষক রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) ও গফরগাঁও উপজেলার ধাইরগাঁও গ্রামের মমতাজ আলী খান (৫৮)।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান জানান, পাশের বায়রাউড়া গ্রামে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন রহমত। তাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আহত হন মমতাজ আলী। উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
রংপুর
রংপুরে আজ সকালে মিঠাপুকুর উপজেলায় ঝড়ের সময় বজ্রপাতে দুইজন মারা যান।
তারা হলেন—মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হজরতপুর সখিপুর এলাকার কৃষক তালেব উদ্দিন (৬০) ও জেলে মিলন ইসলাম (৪২)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সকালে সখিপুরের একটি পুকুরে জেলেদের মাছ ধরার সময় হঠাৎ বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাত শুরু হয়। পাড়ে থাকা ১০-১২ জন গ্রামবাসীসহ জেলেদের অনেকেই এ সময় আহত হন।
মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরুজ্জামান আহমেদ জানান, স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তালেব ও মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আরও পাঁচজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ৬০ বছর বয়সী এক কৃষকের মৃত্যু হয়।
মৃত সুনাম উদ্দিন বড় ভাকৈর এলাকার রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে বলে জানান নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া।
তিনি জানান, ঝড়ের সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
নেত্রকোনা
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় আজ দুপুরে আলতু মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তিনি উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
আটপাড়া থানার ওসি মো. জুবাইদুল আলম জানান, আলতু মিয়া দুপুর ১টার দিকে মেশির হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দেন।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর এলাকায় বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৭) নামে এক কৃষক মারা যান।
তিনি জয়কা ইউনিয়নের কলাবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা জানান, বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা গ্রামে সকালে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষি শ্রমিক আহত হন।
তাদের উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে একজন মারা যান বলে জানান আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হক।
নিহত আবদার হোসেন (৫৫) একই গ্রামের বাসিন্দা।
আহত আরেক শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে ওসি জানান।
এই প্রতিবেদনে সিলেট, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।