এখনো বিচার, ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন নিশ্চিত হয়নি রানা প্লাজার নিহত-আহত শ্রমিক পরিবারের
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবার যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন উপযুক্ত চিকিৎসা এবং ন্যায্য বিচার পাননি।
আজ বুধবার শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ১৩ বছর: বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।
দেশের বিভিন্ন শিল্প দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মতামতও তুলে ধরা হয়।
সভায় জাতীয় ও সেক্টরভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক অধিকার সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি, শ্রমিক অধিকার বিষয়ক অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সদস্য ও শিল্প দুর্ঘটনায় নিহত-আহত শ্রমিক পরিবার।
শ্রমিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, তাজরিন ফ্যাশন, স্পেকট্রাম, হাশেম ফুড, মিরপুর ও সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জ গ্যাসলাইটার কারখানাসহ একাধিক শিল্প দুর্ঘটনা প্রমাণ করে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনও গুরুতর ঘাটতি রয়ে গেছে।
অগ্নি নিরাপত্তা, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক পদার্থ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার অভাব, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা এবং অবহেলাই এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিক নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার পথে নানামুখী বাধার কারণে শ্রমিকরা তাদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
তাজরিন অগ্নিকান্ড ও রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা বলেন, সরকার সম্প্রতি কিছু পরিবারকে পারিবারিক কার্ড প্রদান করেছে। তবে মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও ব্যর্থ। রাষ্ট্র এই ক্ষেত্রে তার দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সকল শিল্প দুর্ঘটনার বিচার, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হলে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
একই সঙ্গে কার্যকর নজরদারি, আইন প্রয়োগের শক্তিশালী ব্যবস্থা ও শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয় আলোচনায়।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সংঘটিত রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক নিহত ও ২ হাজার ৪৩২ জন শ্রমিক আহত হন, যাদের অধিকাংশই নারী ও তরুণ।
সভায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুলের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক মেজবাউদ্দিন আহমেদ, বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ, স্কপ-এর যুগ্ম-সমন্বয়কারী এএসএম ফয়েজ হোসেন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারন সম্পাদক নুরুল আমিন, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) সেকেন্দার আলী মিনা, বাংলাদেশ লেবার রাইটস জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম আলমগীর হোসেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) ডা. বিশ্বজিৎ রায় ও রানা প্লাজা, তাজরিন, হাশেম ফুড এবং সাম্প্রতিক গ্যাসলাইটার কারখানার আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।