সুনামগঞ্জ

দেখার হাওরে ভেঙেছে বাঁধ, কৃষকের চেষ্টায় ফসল রক্ষা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের গুজাউনিতে আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়া একটি বাঁধ স্থানীয় কৃষকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আপাতত ফসল রক্ষা হয়েছে। এতে বড় ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছেন চার-পাঁচটি গ্রামের কৃষক।

আজ শনিবার ভোররাতের দিকে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর-মদনপুর গ্রামের খালপাড়ের বাঁধটির একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে হাওরের পূর্ব অংশে আগে থেকেই জমে থাকা পানি প্রবল বেগে হাওরের পশ্চিম অংশে প্রবেশ করতে শুরু করে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

সকালে বিষয়টি দেখতে পেয়ে সদর উপজেলার গোবিন্দপুর, মদনপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা, কাইক্কারপাড়সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষক জড়ো হয়ে বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল হন তারা। 

মদনপুর গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, দেখার হাওরের পানি নিষ্কাশনের পথে সরকারি বাঁধ দেয়ার কারণে হাওরের পূর্ব অংশে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পশ্চিম অংশের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, ‘আমাদের এই হাওরে পানি ঢুকার জন্যে দায়ী শান্তিগঞ্জ উপজেলার আসামপুর-আস্তমার বাঁধ। সেখানে আরও আগে বাঁধ কেটে দেওয়ার জন্যে বলেছিলাম, কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা রাখেনি। রাখলে আজ আমাদের এই ক্ষতি হতো না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশের একটি জলমহালের ইজারাদার চলতি মৌসুমেই এখানে বাঁধ কেটে মাছ ধরেছিলো। তারপর তারা কোনোরকমে বাঁধ নির্মাণ করলে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতে সেটি দুর্বল হয়ে যায়। 

badh
দেখার হাওরের ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশ। ছবি: সংগৃহীত

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলেও কৃষকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসায় বোরো ধানের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নয়, এটি মূলত খালের পাড়ের একটি অংশ। তারপরও বাঁধের একাংশ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করলে গ্রামবাসীদের প্রচেষ্টায় তা দ্রুত মেরামত হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘দেখার হাওরে যে এরকম একটি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, তা আমাদের জানা ছিল না। আগে থেকে জানলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতো, কারণ আমরা চাই না কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হোক।’

বিলের ইজারাদারের বাঁধ কাটার প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতির জন্য কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’