লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধীদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ৮

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ১৪৪ ধারার মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সদর থানার ওসিসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। 

আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ আহত হন। আহত অন্যান্যদের পরিচয় জানা যায়নি।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, গতকাল শনিবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা আজ বিকেলে চকবাজার মসজিদের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয়। 

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে একই সময় ওই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা পৌর শহরে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ বিকেলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে ‍দুই পক্ষ। বিক্ষুদ্ধদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টাকালে পুলিশ ও বৈষম্যবিরোধীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সদর থানার ওসিসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে আমরা দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই।’ 

এসপি মো. আবু তারেক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শনিবার লক্ষ্মীপুর সফরে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফাহিমের দেওয়া আপত্তিকর পোস্ট নিয়ে গোলযোগের সৃষ্টি হয়।’ 

এসপি আরও বলেন, ‘সদর থানার ওসি ডান হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এ ঘটনায় ফাহিমকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।