সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জনের ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে চাঁদাবাজির মামলায় দুইজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—এস এম আলী আজম ও আশিকুর রহমান রনি।
আজ রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ এ রায় ঘোষণা করেন।
এ সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দুজন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন। তখন তারা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল-ভাউচার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখতে চান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান তাদের জানান, এসব নথি দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকরা মিলে এস এম আলী আজমকে আটক করেন। তবে আশিকুর রহমান রনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার দিনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত দুই আসামিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্তরা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা জায়গায় চাঁদাবাজি করতেন। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন।’
এ প্রসঙ্গে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। সাজাপ্রাপ্তরা নামসর্বস্ব পত্রিকার পরিচয়পত্র ও অনুমোদনহীন ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে প্রতারণা করতেন। তারা মূল ধারার কোনো সাংবাদিক নন।’