গাজীপুরে বনের জমি উদ্ধারে যাওয়া কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ডুমবাড়ীচালা এলাকায় বনের জমি উদ্ধারে যাওয়া কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার সকালে শ্রীপুর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেন।

গতকাল সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে যান বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন অন্তত ১৫ জন।

আহতদের মধ্যে শ্রীপুর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মো. মোকলেছুর রহমান গুরুতর আহত অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

হামলার পর সাতখামাইর বিটের বিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. বিপ্লব হোসেন শ্রীপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে দায়ের হয়।

বন বিভাগের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে আভিযানিক দল ডুমবাড়ীচালা এলাকায় দুলাল মিয়ার সদ্য নির্মিত অবৈধ স্থাপনার সামনে যায়।

পরে দুলাল মিয়াসহ ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল লোহার রড, শাবল, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানে বাধা দেয়। বন কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি সরে যেতে গিয়ে পড়ে যান। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায়।

পরে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ফরেস্টার আখতার হোসেনও হামলার শিকার হন। এ ছাড়া ফরেস্টার মো. বিপ্লব হোসেন, বন কর্মচারী আলমগীর হোসেন, আব্দুল মালেকসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক আহত হন।

হামলাকারীরা বন বিভাগের স্টিকারযুক্ত সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে। বন বিভাগের হিসাবে প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

শ্রীপুর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বুধবার সকালে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বনের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছি। সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার পা ভেঙে গেছে।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এরইমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।