সাভারে একটি ভবন সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে ঘিরে রেখেছে সিটিটিসি, যা জানাল পুলিশ
সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা ভবন ঘিরে রেখেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন ওই ভবনটি ঘিরে ফেলে সিটিটিসি ও পুলিশ সদস্যরা।
রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে অভিযান চলছিল।
প্রথমদিকে অভিযানের বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি পুলিশ ও সিটিটিসি কর্মকর্তারা।
সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই ভবনের কাছাকাছি যেতে বা আশপাশের এলাকায় অবস্থান করতে বাধা দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভার মডেল থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, স্থানীয় পুলিশকে এই অভিযানের কারণ সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, 'আমাদের এই অভিযানে সহায়তা করার জন্য বলা হয়েছিল। তাই আমরা এখানে এসেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত সিটিসিটি পরে ব্রিফ করবে।'
রাত পৌনে ১০টার দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটিটিসির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ভবনটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম জমা করে রাখা হয়েছে বলে তারা তথ্য পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, 'বাড়িটিতে তালা মারা রয়েছে। আমরা ভেতরে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি।'
সিটিটিসি সদস্য ছাড়াও স্থানীয় থানার পুলিশ এবং এনএসআইয়ের (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন বলে জানান সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা।
ভবনের কাছের এক মুদি দোকানদার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে সিটিটিসি সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রেখেছেন।
'তারা ভবনের সামনের রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন,' বলেন তিনি।
তবে ওই ভবন ঘিরে রাখার মধ্যেই সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম এক ব্রিফিংয়ে বলেন, 'আজ হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে ৫টি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটক করে সিটিটিসি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এই বাড়িটি ১ তারিখে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ভাড়া নিয়ে বিস্ফোরক রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে বাড়িটি থেকে জেএমবির বেশ কিছু লিফলেট এবং কয়েকটি ককটেল সাদৃশ্য বস্তু এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।'
'গ্রেপ্তারকৃতকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। আর এই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে যেন সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়,' বলেন তিনি।
রাত ১২টার দিকে ওসি সাইফুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে টেলিফোনে বলেন, 'আটক ব্যক্তির কাছে থাকা ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি শক্তিশালী ৫টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসার নিচতলার কক্ষটি থেকে আরও ৯টি একই জাতীয় বোমা উদ্ধার করা হয় এবং বোমা তৈরির বিপুল পরিমান সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।'
রাত ১২টার দিকে একটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
জানতে চাইলে অভিযানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভবন থেকে পাওয়া পাইপ বোমাগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোজেন পার অক্সাইড।'
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আব্বাস আলী নামের একজন এবং আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে আসার পর গত ২ তারিখে ভাড়া দেওয়া হয়। তারা বলেছিলেন স্বামী-স্ত্রী থাকবেন। পাশের একটি স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করবে। ফ্যামিলি ভেবে আমরা ভাড়া দিয়েছি। ভেতরে যে এতো কিছু লুকিয়ে রাখছে এটা তো আমরা জানি না। তারা বলছিলো তারা ড্রাইভার, গাড়ি চালায়।'
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সাভার সংবাদদাতা)
