মানিকগঞ্জে খাদ্যগুদামে চাল ও গমের ঘাটতি, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত করা চাল ও গমের পরিমাণে ঘাটতি পাওয়ায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্রের সই করা পৃথক দুটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন, ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার।

প্রজ্ঞাপন দুটিতে জানানো হয়, ওই খাদ্যগুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম, ৪১ টন ধান বেশি এবং ছয় হাজার ৫০০টি বস্তা কম পাওয়া গেছে। ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে তাদের চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয় এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর আওতায় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খাদ্যগুদামে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরীক্ষা (অডিট) কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে গত বুধবার ঢাকা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুদামের মজুদ করা খাদ্যশস্যের হিসাব, খাতাপত্র ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকৃত মজুদ যাচাই করেন। এসময় গুদামে চাল ও গমের মজুত কম পাওয়া যায়।

খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন দুটি থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট ৪৯০ নম্বর স্মারকে খাদ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠিত হয়। গত বুধবার ওই কমিটির সদস্যরা ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম সরেজমিন পরিদর্শন করে খাদ্যশস্যের মজুত যাচাই করেন। এসময় ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম, ৪১ টন ধান বেশি এবং ৬ হাজার ৫০০টি বস্তা কম পাওয়া যায়। কমিটি বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপপরিচালক (সংস্থাপন), প্রশাসন বিভাগকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করে। এরপর ওই কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নেওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামের অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ কারণে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

অপরদিকে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিরীক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকায় হিসাবের গরমিল ও তথ্যে অসংগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে সাময়িকভাবে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, ‘খাদ্য বিভাগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেছে। দাপ্তরিক হিসাব নিরীক্ষা ও প্রকৃত মজুদ যাচাইয়ের সুবিধার্থে খাদ্যগুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। নিরীক্ষা ও যাচাই কার্যক্রম শেষ হলে গুদামটি খুলে দেওয়া হবে।’