‘আমার মেরুদণ্ডে এখনো ৫ আগস্টের স্প্লিন্টার’

আইসিটিতে শ্রমিক নবী হোসেনের সাক্ষ্য
স্টার অনলাইন রিপোর্ট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাড্ডায় বিক্ষোভ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন পেশায় গ্রিল শ্রমিক নবী হোসেন সজীব। সেদিন তার শরীরে প্রায় ১৫০টি ছররা গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে যায়।

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন নবী হোসেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে রামপুরায় ২৩ জনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

নবী হোসেন জানান, তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন এবং মেরুল বাড্ডা ও আশপাশে গুলিতে বেশ কয়েকজনকে নিহত ও বহু মানুষকে আহত হতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, '৫ আগস্ট আমি মেরুল বাড্ডার ১৫ নম্বর রোডে বিক্ষোভে যোগ দেই। পুলিশের বাধা সত্ত্বেও প্রধান সড়কে চলে যাই। পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও র‌্যাবের সদস্যরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।'

সেসময় ছররা গুলিতে তিনি নিজে আহত হন এবং তার সামনে অন্য দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে জানান তিনি।

নবী হোসেন ট্রাইব্যুনালকে বলেন, 'প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আমার চিকিৎসা হয়। সিএমএইচের চিকিৎসকরা আমার শরীর থেকে ২৫টি ছররা গুলি বের করতে সক্ষম হলেও তারা জানান আমার পিঠের হাড়ে গেঁথে থাকা আরেকটি স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব নয়।'

শুনানিকালে তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের ছররা গুলির চিহ্ন দেখান।

এর আগে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২০ জুলাই গুলিবর্ষণের ঘটনার সময় তিনি আহত আন্দোলনকারীদের রিকশা ও ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন। রাস্তায় রক্ত দেখে তিনি নিজে অসুস্থ হয়ে বমি করেন বলেও জানান।

নবী হোসেন বলেন, 'এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন দায়ী এবং আমি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'