ইউপি নির্বাচন: আগামী সপ্তাহের মধ্যে আচরণবিধির খসড়া প্রকাশ করতে পারে ইসি
আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত বৈঠকের পর আগামী সপ্তাহের মধ্যে আচরণবিধির খসড়া প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কমিশনের অনুমোদন ও চূড়ান্তকরণের আগে জনমত যাচাইয়ের জন্য ইসি তাদের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খসড়াটি এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত আচরণবিধির আলোকে স্থানীয় সরকারের বাকি চারটি স্তরের—পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনবে কমিশন।
গত সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে নিজ কার্যালয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
কমিশনের বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি এই সপ্তাহের শেষে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, এই সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের পায়ে একটি অস্ত্রোপচারের কথা রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে কমিশন বৈঠকে বসবে।
সচিব জানান, ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধি এবং ভোটগ্রহণ নির্দেশিকা (ম্যানুয়াল) নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা এরইমধ্যে শেষ হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ইউপি নির্বাচনের বিধিমালার ওপর ভিত্তি করেই স্থানীয় সরকার অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের—পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়ন করা হবে।
ইসি আরও জানায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় হবে এবং আচরণবিধির খসড়াটি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের জন্য পাঠানো হবে।
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজনের বিষয়ে ইসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পায়নি।
আচরণবিধির বড় পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং পলাতক আসামিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
তিনি আরও জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সই সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া পোস্টার, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাদ দেওয়া হবে।
ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধির অগ্রগতির বিষয়ে সচিব বলেন, আমরা সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেব, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের জন্য চিঠি পাঠাব। তার আগে কমিশন একটি বৈঠক করবে। অতীতেও এই নিয়মই ছিল।
ইউনিয়ন পরিষদ আচরণবিধির বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সচিবালয় পর্যায়ে খসড়া তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কমিশন অনুমোদন দেওয়ার পর আমরা এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।
এর আগে, ৪ জুন ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অক্টোবরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হতে পারে এবং আগস্টে এর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
তিনি জানিয়েছিলেন, জুনের মধ্যে বিধিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং চার হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে কমিশনের কাছে দীর্ঘ তালিকা জমে আছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, চার হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে তিন হাজার ৬৩২টি আগস্টের শেষ নাগাদ নির্বাচনের যোগ্য হবে এবং আরও ৩৪৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে যোগ্য হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমানে নির্বাচনের অনুপযুক্ত, যার মধ্যে ৭৯টি আইনি বিরোধ, ১৮টি সীমানা বিরোধ এবং সাতটিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা আছে।
গত ১৯ মে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছিলেন যে, সরকার বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু করে আগামী বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।