নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙলেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার পর গতকাল বুধবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এলাকায় পৌঁছার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পর্যন্ত একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

আজ দুপুরে আইনমন্ত্রী নিজ উপজেলা কসবায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে আচরণবিধি ভেঙে হাজারও মানুষ সমাগম করে স্থানীয় পৌর মুক্তমঞ্চে জনসমাবেশ করা হয়। ওই জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে কসবা উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের একাংশ বন্ধ করে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়। এ সময় দুই লেনের সড়কটির একদিকে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর আগে, জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকে কসবার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন।

পরে আইনমন্ত্রী কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তারের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন, কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র এমজে হাক্কানী, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুল হক ভূঞা, পৌরসভার সাবেক মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল, কসবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

img-20231130-wa0013.jpg
জনসভায় আইনমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

এরপর আইনমন্ত্রী তার নিজ গ্রাম কসবার পানিয়ারূপে মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে সেখান থেকে আখাউড়ায় রওনা হন। বিকেল ৩টায় তিনি আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমার কার্যালয়ে সেখানকার স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এরপর তিনি আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের কাছে আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় যোগদান করেন। রেলস্টেশন ঘেঁষে জনসভার আয়োজন করায় অনেক সময় ধরে স্টেশনে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ ছিল। এ সময় বিকল্প হিসেবে মাইক্রো স্ট্যান্ডের পাশ দিয়ে লোকজন রেলস্টেশনে যাতায়াত করে।

img-20231130-wa0011.jpg
জনসভা। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে আখাউড়ায় আইনমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আখাউড়া উপজেলা সদরের স্কুল-কলেজের ৪৫০ জন শিক্ষার্থীকে হলুদ শাড়ি পরিয়ে সড়ক বাজার এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। জানা গেছে, আখাউড়া নাছরীন নবী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জাহানারা হক কলেজ ও আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তারা মন্ত্রীকে ফুল ছিটিয়ে সংবর্ধনা জানায়। বিপুল জনসমাগমের কারণে এক রাস্তার শহর আখাউড়া দিনভর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

img-20231130-wa0017.jpg
আইনমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আখাউড়া উপজেলা সদরের স্কুল-কলেজের ৪৫০ জন শিক্ষার্থীকে হলুদ শাড়ি পরিয়ে সড়ক বাজার এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

আখাউড়াতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, 'আজকে আপনারা দেখছেন যে মানুষ কীভাবে উল্লসিত নির্বাচনকে নিয়ে। এই নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ হলে অংশগ্রহণকৃত নির্বাচন হবে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয় যখন বাংলাদেশের জনগণ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।'

এদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের সফরসূচিতে উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানকালীন সরকারি কোনো সুবিধা গ্রহণ করবেন না। কিন্তু দুদিন নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানকালে তার সঙ্গে আগের মতোই পুলিশ প্রটোকল ছিল।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি সারাদিন অফিসের ভেতরে ছিলাম। আচরণবিধি ভঙ্গ হওয়ার ব্যাপারে কিছু জানি না। আচরণবিধির জন্য আমাদের আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট আছে, তিনি যদি আমাদেরকে রিপোর্ট করেন অথবা কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, 'প্রার্থী পাঁচজন নিয়ে আমার কার্যালয়ে ঢুকেছেন। বাইরে কী হয়েছে সেটা আমার জানার কথা নয়।'

নির্বাচনী আচরণবিধির ৮ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়পত্র দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না। এ ছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা এর মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবে না। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি। সেই হিসাবে ১৫ ডিসেম্বরের আগে কেউই নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবে না।