কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে ‘কালান্দার বাবা’কে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে একজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম আব্দুর রহমান শামীম (৫২) হলেও স্থানীয়ভাবে তিনি ‘কালান্দার বাবা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় শামীমের দরবারে এ হামলা হয়।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হামলায় শামীম নিহত হন। এছাড়া তার ২ অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

তিনজনকেই দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ৩ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে শামীমকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি দুজন চিকিৎসাধীন।'

তিনি জানান, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

যোগাযোগ করা হলে এসপি জসিম উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ওই ব্যক্তির (শামীম) একটি পুরোনো ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ছিল। ভিডিওটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কিছু লোক সেখানে হামলা চালায়।'

তিনি আরও বলেন, 'হঠাৎ করে ভিডিওটি সামনে আসায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তিনি (শামীম) জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা নামের পাশাপাশি একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। কখনো নিজেকে "শ্রী জাহাঙ্গীর", কখনো "শামীম কৃষ্ণ" বা অন্যান্য নামে পরিচয় দিতেন। তার চিন্তাচেতনা এমন ছিল যে, তিনি বিভিন্ন ধর্মের উপাদান মিশিয়ে একটি মিশ্র ধর্ম প্রচারের চেষ্টা করতেন।'

এসপি বলেন, 'ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে ৩০০-৪০০ মানুষ জড়ো হয়। আমাদের কাছে আগাম তথ্য ছিল। বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচিও ডাকা হয়েছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করেছিলাম এবং কিছুই ঘটবে না বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছিল।'

'হঠাৎ একদল লোক সেখানে ঢুকে হামলা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং শামীমকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর মধ্যেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়,' যোগ করেন তিনি।

ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এসপি জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, 'যারা এ ঘটনা শুরু করেছে এবং ভিডিওটি ছড়িয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। আমাদের কাছে কিছু নাম এসেছে। কিন্তু এ মুহূর্তে আমরা নাম প্রকাশ করছি না। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে কি না, তাও আমরা খতিয়ে দেখছি।'

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।