পীর শামীম হত্যা: ১০০ ঘণ্টা পার হলেও গ্রেপ্তার নেই, ভক্ত-অনুসারীদের বিক্ষোভ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলা চালিয়ে পীর আব্দুর রহমান শামীম হত্যার ১০০ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ বলছে, গত শনিবারের ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের সবাই পলাতক।
গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদ, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) ও আবেদের ঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি। এই চারজন ছাড়াও মামলায় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান আজ বুধবার সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট সবাই পলাতক। পুলিশ জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।'
এদিকে শামীম হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী ও তার ভক্ত-অনুসারীরা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে শামীম হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ভক্তরা।
এদিকে, বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে জামায়াত নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, 'ফিলিপনগরের ওই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বা এর কোনো নেতাকর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল খাজা আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে মামলা দিয়েছে।'
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রথম হামলায় প্রায় ৭০-৮০ জন অংশ নেন। ভাঙচুরে সরাসরি অংশ নেন ৭-৮ জন। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, যেসব আইডি ও পেজ থেকে ভিডিও ছড়িয়ে হামলার উসকানি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
