পীর শামীম হত্যা: জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতিসহ ৪ জনের নামে মামলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবার শরিফে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল রাতে নিহত শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় এই হত্যা মামলা করেন।
মামলায় নাম থাকা অন্য তিন আসামি হলেন—স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) ও আবেদের ঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি। ওই চারজন ছাড়াও মামলায় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হত্যার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ বলেন, ‘যিনি মারা গেছেন, তিনি আমার বংশের বড় ভাই। তার ভাইয়ের নির্দেশেই আমি লাশ আনতে গিয়েছিলাম। ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গেও আমার একাধিকবার কথা হয়েছে। এরপরও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অথচ ওই দিন সেখানে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারও নাম মামলায় নেই।’
মামলায় দলের দুজন নেতা-কর্মীর নাম থাকার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলায় অনেকের নামই আসতে পারে। তবে আমাদের দলের কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। আমরা এই অভিযোগ আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রথম হামলায় প্রায় ৭০-৮০ জন অংশ নেন। ভাঙচুরে সরাসরি অংশ নেন ৭-৮ জন। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, যেসব আইডি ও পেজ থেকে ভিডিও ছড়িয়ে হামলার উসকানি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।