জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্ট ছাড়তে হয়েছে ১৭ বিচারপতিকে
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সুপ্রিম কোর্টের মোট ১৭ জন বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন অথবা অপসারিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জন বিচারপতি হয় চাপের মুখে, নয়তো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত চলাকালে পদত্যাগ করেছেন। বাকি তিনজনকে জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশে অপসারণ করা হয়েছে।
বাদ পড়া এই ১৭ জন বিচারপতির মধ্যে তৎকালীন প্রধান বিচারপতিসহ ৬ জন আপিল বিভাগের এবং ১১ জন হাইকোর্ট বিভাগের ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বাকি দুজন নিয়োগ পান বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে।
সুপ্রিম কোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এত বেশিসংখ্যক বিচারপতির পদত্যাগ ও অপসারণ বিচার বিভাগের জন্য ইতিবাচক কোনো লক্ষণ নয়। এর ফলে বিচার বিভাগ নিয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।’
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, এই পদত্যাগ বা অপসারণের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, ‘যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা এর পেছনে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। অন্যদিকে যাদেরকে অপসারণ করা হয়েছে, সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি তা করেছেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, বিচারপতির সংকট দেখা দিলে সরকার নতুন নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির সমন্বয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয়। এই কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ওঠা অযোগ্যতা বা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে।
পটপরিবর্তনের পরপরই, গত বছরের ১০ আগস্ট ছাত্র বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং আপিল বিভাগের আরও পাঁচজন বিচারপতি পদত্যাগ করেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুদিন পর এ ঘটনা ঘটে। সেদিন সকালে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবি জানান। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশও সেদিন ছাত্রদের সঙ্গে যোগ দেন।
হাইকোর্টের তিন বিচারপতি—বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হক এবং এ কে এম জহিরুল হক ২০২১ সালের আগস্ট থেকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তাধীন ছিলেন। তারা গত বছরের নভেম্বরে পদত্যাগ করেন।
গত বছর কাউন্সিলের তদন্ত চলাকালে হাইকোর্ট থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন। আর চলতি বছর একই ধরনের তদন্তের মুখে পদত্যাগ করেছেন বিচারপতি মামনুন রহমান, নাইমা হায়দার এবং মো. রেজাউল হাসান।
অন্যদিকে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে গত বছর হাইকোর্ট বিভাগ থেকে তিন বিচারপতিকে অপসারণ করা হয়েছে। তারা হলেন—বিচারপতি খিজির হায়াত, খন্দকার দিলীরুজ্জামান এবং মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার।
তবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।