ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান বাবা, ৭ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী গ্রামের একটি বিল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ৭ দিন আগে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে ছেলেকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন মেরাজ মিয়া (২৪)। এরপর থেকে তিনি পলাতক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেরাজ মিয়ার সঙ্গে ২ বছর আগে একই গ্রামের তাসলিমা বেগমের (২০) বিয়ে হয়। তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। তিন সপ্তাহ আগে তাসলিমা তার ছেলে তানভিরকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। সাত দিন আগে শিশুটিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে যান মেরাজ।

পরদিন মেরাজের বাড়িতে গিয়ে শ্বশুর আক্তার হোসেন দেখেন, মেরাজ ও তানভির সেখানে নেই। তাদের কোনো খোঁজও দিতে পারেননি কেউ। মেরাজের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে, গত মঙ্গলবার তাসলিমা ভৈরব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আজ সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা একটি বিলে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করেন।

শিশুটির মা তাসলিমা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘তানভিরকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে মেরাজ নিখোঁজ। সেই আমার ছেলেরে মারছে।’

‘শিশুটি তো হাঁটতে পারে না। তাহলে বিলের পানিতে পড়ল কীভাবে,’ প্রশ্ন করেন তিনি।  

পুলিশ পরিদর্শক লিমন বোস বলেন, 'ধারণা করা হচ্ছে, ৪-৫ দিন আগে শিশুটির মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির বাবাকে খোঁজা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।'