১৮ ঘণ্টা পর ২ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর, বিজিবির প্রতিবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
আজ শনিবার সুলতানপুর-৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০) এবং একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৫৫)।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল শরিফুল বলেন, মরদেহ ফেরত আনার জন্য বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের পর পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রতিবাদলিপি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কসবা উপজেলার ক্ষিরনাল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৩৬ এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার সিং-সহ বিশালগড় থানার কর্মকর্তারা।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছোড়া ছররা গুলিতে মুরসালিন ও নবীর হোসেন নিহত হন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় একদল লোক অবস্থান করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে কয়েকজন আহত হন। গুলিবিদ্ধ মুরসালিন ও নবীর হোসেনকে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানায়।
একই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে সকালে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে বিএসএফের বাধার মুখে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুটি ছররা গুলি ছোড়ে।
বিজিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।