বরিশালেও কমলো চামড়ার দাম

সুশান্ত ঘোষ
সুশান্ত ঘোষ

বরিশালে গত বছরের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির গরুর চামড়া। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীদের কাছে দীর্ঘদিনের বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি লবণসহ আনুষঙ্গিক সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বড় গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, মাঝারি ৩০০ টাকা ও ছোট আকারের চামড়া ২০০ টাকার মধ্যে কিনতে হচ্ছে।

এদিকে দাম না পাওয়ায় চামড়া বিক্রি করতে আসা বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রতিনিধি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিনে নগরীর কীর্তনখোলা তীরের ফল পট্টি ও পোর্ট রোড এলাকায় চামড়া নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের ভিড় করতে দেখা গেছে।

নগরের জামিয়াতুল শাহাদাত মাদ্রাসার শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ৪২টি বড় গরুর চামড়া ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এখন আরও কিছু চামড়া নিয়ে এসেছি, কিন্তু পাইকারি ক্রেতারা আরও কম দামে কিনতে চাইছে।’

বরিশাল সদর উপজেলার কাকাসুরা ও মুকুন্দ পট্টি এলাকা থেকে ১৭টি বড় গরুর চামড়া নিয়ে এসেছেন সানাউল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘পাইকারদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলা যাচ্ছে না। তারা কোনো নির্দিষ্ট দাম বলছে না, তাই বিক্রেতারা চামড়া নিয়ে দর কষাকষি করছেন।’

চামড়া নিয়ে আসা খুচরা বিক্রেতারা জানান, সিন্ডিকেটের কারণে তারা চামড়ার ন্যায্য দাম পান না। পাইকারি ব্যবসায়ীও তুলনামূলক কম। এছাড়া চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, তা অনেকেই জানেন না। এসব ঝামেলায় যেতে না চাওয়ায় চামড়া দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। আর চামড়া পচনশীল হওয়ায় এই সুযোগ নেয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।

ছবি: স্টার
বিক্রির জন্য লবণ দিয়ে চামড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। ছবি: টিটু দাস

 

তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় প্রতি গরুর চামড়ার দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। পাশাপাশি ছাগলের চামড়ারও কোনো দাম নেই বললেই চলে।

নগরীর রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে মিরাজুল ইসলাম চামড়া নিয়ে পাইকারি হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘চামড়ার দাম গত বছরের চেয়েও অনেক কম। গত বছর বড় গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবার সর্বোচ্চ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চামড়া নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি।’

চামড়ার পাইকারি ক্রেতা মাহাদ ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঢাকায় প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হলেও তাদের বড় গরুর চামড়া কিনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মাঝারি ৩০০ টাকা এবং ছোট গরুর চামড়া ২০০ টাকায়। এসব চামড়ায় আরও অন্তত প্রতি পিসে ৩০০ টাকার লবণ দিতে হবে।’

‘ঢাকায় সিন্ডিকেটের কারণেই এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন’, বলেন তিনি।

আরেক ব্যবসায়ী পলাশ বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে এ বছর প্রায় ৫০ হাজার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জিত হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ অনেকের চামড়া সংগ্রহের পর সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা নেই। এতে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত বছর ১ লাখ ২৬ হাজার গরু কোরবানি হয়েছিল। এ বছর ১ লাখ ২৯ হাজার গরুর সরবরাহ ছিল। কতগুলো কোরবানি হয়েছে তা কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চামড়ার দাম এখানে বর্গফুটে নির্ধারণ করা হয় না। বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখে।’

ঢাকাতেও গত বছরের তুলনায় কম দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি করতে তারা বাধ্য হয়েছেন।

রাজধানীর অনেক চামড়া বিক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় তারা প্রতি চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম পেয়েছেন। পাশাপাশি আগের বছরের মতোই ব্যবসায়ীরা ছাগলের চামড়া কেনায় তেমন আগ্রহ দেখাননি।