সীমান্তের শূন্যরেখায় ১৪ দিন ধরে অপেক্ষায় অসহায় ৩ যুবক
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জিনজিরাম নদীর তীরঘেঁষা ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ১৪ দিন ধরে আটকে আছেন তিন যুবক।
মাথার ওপর নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই স্বাভাবিক জীবনযাপনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। প্রচণ্ড রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে দিন কাটছে তাদের। কখনো না খেয়ে, আবার কখনো স্থানীয়দের দেওয়া সামান্য খাবারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের অবস্থানের মাঝখানে তারা আটকে আছেন।
গত ১৪ জুন ভোরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ৩ যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
তবে বিজিবি সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তারা নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আটকা পড়ে আছেন।
প্রথম কয়েক দিন খোলা আকাশের নিচেই ছিলেন তারা তিনজন। পরে মানবিক কারণে স্থানীয়রা পলিথিন দিয়ে তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন এবং নিয়মিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করছেন।
তবে তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ খুব সীমিত। একপাশে সশস্ত্র বিজিবি সদস্যরা ও অন্য পাশে বিএসএফ সদস্যরা নজরদারিতে থাকায় স্থানীয়রা শুধু দূর থেকে অল্প সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের করার তেমন সুযোগ নেই। বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে তাদের খাবার ও পানি দিচ্ছেন। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি হলে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। আমরা যখনই তাদের কাছে যাই, তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টির সমাধানে বিজিবি একাধিকবার বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, বিএসএফ যেহেতু অবৈধভাবে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে, তাই এ সমস্যার সমাধানেও তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।
ওই তিন যুবকের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান হাসানুর রহমান।
বিএসএফের এই কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন।