শহীদ মিনারের লাল সূর্যের কাছে শেষবারের মতো মুস্তাফা মনোয়ার

জাহিদ আকবর
জাহিদ আকবর

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের নকশা প্রণয়নে অন্যতম ভূমিকা রেখেছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। শেষ বিদায়ে আজ সেই লাল সূর্যের কাছেই শেষবারের মতো ফিরে এলেন দেশের এই বরেণ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। পৌনে একটার দিকে এখানেই তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ বেলা ১১টায় মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। এখানে সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাকে শ্রদ্ধা জানায়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, হাশেম খান, শংকর সাওজাল, তারিক আনাম খান, কেরামত মাওলা, খায়রুল আলম সবুজ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, খায়রুল আনাম শাকিল, শহীদুজ্জামান সেলিম, নিমা রহমান, আজাদ আবুল কালাম, লাইসা আহমদ লিসা, কল্পনা আনাম, ত্রপা মজুমদার, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউদ্দীন (রেজাউদ্দিন স্টালিন), বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমসহ আরও অনেকেই।

বরেণ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার ৯০ বছর বয়সে সোমবার মারা যান। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী পাপেট্রি, চিত্রকলা, ভিজ্যুয়াল আর্ট, টেলিভিশন এবং শিশুতোষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার সৃজনশীল কাজ দেশের কয়েক প্রজন্মের শিশুদের জীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেন। এ ছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে সুলতান স্বর্ণপদকে ভূষিত করে।

আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে শিল্পীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ১১টায় তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়।

বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মুস্তাফা মনোয়ারের দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। দুপুর ২টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আরও একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।