বাউফলে বিএনপির ২ নেতার বিরুদ্ধে যুবককে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক যুবককে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে অপহৃত মো. নাসির উদ্দিন মৃধাকে (৪০) উদ্ধার করে পুলিশ।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাসির উদ্দিন বাউফল উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরী এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ পলাশ।

নাসির ও তার স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে একটি পারিবারিক বিরোধ-সংক্রান্ত মামলায় হাজিরা দিতে তিনি পটুয়াখালী আদালতে যান। হাজিরা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় পৌঁছালে আলী আজম নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থান জানতে চায়। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বললে তাকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলে তুলে বাউফলে নেওয়া হয়। পরে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকার মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে নাসিরের চোখ, হাত ও পা বেঁধে মারধর করা হয়। ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করে।

নাসিরের দাবি, অপহরণকারীরা তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা সাড়ে ৩ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর বিরোধ রয়েছে। নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘নাসির উদ্দিন মাদক চোরাকারবারি। অপহরণের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

অপর অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ পলাশও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অপহরণের মতো কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।’

ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর বিকেলে পুলিশ নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে। তবে ঘটনার সূত্রপাত পটুয়াখালী সদর থানার এলাকায় হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।