নাফাখুম-অমিয়াখুমে আটকে পড়া ৯০ পর্যটককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও নদীর তীব্র স্রোতে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পর্যটন এলাকা নাফাখুম ও অমিয়াখুমে আটকে পড়া ৯০ পর্যটক ও তাদের সঙ্গে থাকা ১০ স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডকে নিরাপদে উপজেলা সদরে ফিরিয়ে এনেছে প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীসহ আশপাশের পাহাড়ি ছড়া, খাল ও ঝরণার পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম, রেমাক্রী ও অমিয়াখুমসহ থানচির বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। বৃষ্টির কারণে নদীর স্রোত বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় তাদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ইউএনও ফয়সাল বলেন, ‘সোমবার খবর পাওয়ার পরপরই আটকে পড়া পর্যটক ও গাইডদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃষ্টি কিছুটা কমে গেলে মঙ্গলবার সকালে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, স্থানীয় গাইড ও দুটি নৌকা পাঠানো হয়। নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দুই দফায় পর্যটকদের নিরাপদে রেমাক্রী হয়ে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রু অং মারমা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় তার শিলাগিরি রিসোর্টে আশ্রয় নেওয়া ৭০ পর্যটকের জন্য বিনামূল্যে থাকা ও স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও থানচি ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির সহযোগিতায় তারা আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিরাপদে থানচি সদরে ফিরে গেছেন।’
বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত।
টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি ১১ দশমিক ০৮ মিটার এবং সাঙ্গু নদীর পানি ১২ দশমিক ৮৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।’
‘এর মধ্যে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ৭২ মিটার ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা থেকে ১ দশমিক ৯১ মিটার নিচে রয়েছে,’ বলেন তিনি।
রাতে বৃষ্টি হলে দুই নদীর পানিই বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। জেলার ২২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।’
‘এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে,’ যোগ করেন ডিসি।
এর আগে, টানা ৩ দিনের বৃষ্টিপাতে বন্যা ও সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে গতকাল সোমবার রাত থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে জেলা প্রশাসন।
এর প্রভাব পড়েছে জেলার পর্যটন ব্যবসায়। বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘১০ জুলাই পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর অনেক পর্যটক বুকিংয়ের তারিখ পরিবর্তনের পরিবর্তে সরাসরি অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। এতে জেলার হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’