আড়াই বছর ধরে উপবৃত্তির টাকা যেত শিক্ষকের স্বামীর মোবাইলে

মাসুক হৃদয়
মাসুক হৃদয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আড়াই বছর ধরে এক শিক্ষকের স্বামীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশ মিয়ার অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে তার মা খুকি বেগমকে বিদ্যালয়ে ডাকা হলে বিষয়টি সামনে আসে। পরশের বাবা পেশায় ভ্যানচালক।

গতকাল পরশের শ্রেণিশিক্ষক স্বীকৃতি রায় জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তার উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন খুকি বেগম জানান, তার ছেলে কখনোই উপবৃত্তির কোনো টাকা পায়নি।

পরে বিদ্যালয়ের নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরশ সরকারি উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আসে। তবে পরশের পরিবারের সদস্যের মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে তৎকালীন শ্রেণিশিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের নম্বর নিবন্ধন করেছিলেন। আয়েশা বর্তমানে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে কর্মরত।

বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, গত আড়াই বছরে ওই নম্বরে মোট সাড়ে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক স্বীকৃতি রায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শিক্ষার্থীর মা যখন বললেন, তার ছেলে কখনো উপবৃত্তির টাকা পায়নি, তখন আমি বিস্মিত হই। পরে নথি যাচাই করে দেখি, সেখানে অন্য একজনের মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত রয়েছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে প্রধান শিক্ষককে জানাই।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, নিবন্ধিত নম্বরটিতে একাধিকবার ফোন করা হলেও প্রথমে কেউ সাড়া দেননি। পরে বিদ্যালয়ের অন্য এক শিক্ষকের ফোন থেকে কল করা হলে ইব্রাহিম খলিল রিসিভ করেন ও নম্বরটি তার নিজের বলে নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী পরশের মাও তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিকেলে খুকি বেগমের নগদ হিসাবে ২ হাজার ৭০০ টাকা ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল থেকে পাঠানো হয়। যদিও বিদ্যালয়ের নথিতে দেখা যায়, উপবৃত্তি বাবদ মোট সাড়ে চার হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।

খুকি বেগম বলেন, প্রথমে ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে আমার নগদ হিসাবে ২ হাজার ৭০০ টাকা পাঠান।

মৌসুমী আক্তার জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

আগের উপবৃত্তি ব্যবস্থায় যেকোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ করা হলে আয়েশা আক্তার প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে এটি ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন।

 

তবে শিক্ষার্থীর মায়ের হিসাবে ২ হাজার ৭০০ টাকা পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখেছি, সেখানে টাকা জমা হয়েছিল। তাই টাকা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’

আখাউড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রধান শিক্ষককে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পৃথক একটি বিভাগীয় তদন্তও চলমান।