কালিয়াকৈরে করণী ফ্যাশনসের গার্মেন্টস শাখা বন্ধ, অনিশ্চয়তায় ৮ হাজার শ্রমিক
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সালিপুর এলাকার রাতনপুরে অবস্থিত করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের গার্মেন্টস শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী আজ শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কারখানাটিতে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
বুধবার (৯ জুলাই) জারি করা এক নোটিশে কর্তৃপক্ষ জানায়, ৮ জুলাই বিকেল থেকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গার্মেন্টস শাখার শ্রমিকেরা উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। পরদিন সকালে তারা কারখানায় প্রবেশ করলেও উৎপাদন কাজে অংশ নেননি।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার অনুরোধের পরও শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী গার্মেন্টস শাখার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পৃথক নোটিশের মাধ্যমে কারখানা পুনরায় চালুর তারিখ জানানো হবে। তবে করণী ফ্যাশনসের নিটিং সেকশন এবং একই মালিকানাধীন অন্যান্য কারখানার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি মাসের বেতন একসঙ্গে পরিশোধ না করে কিস্তিতে দেওয়া হচ্ছে। এতে বাড়িভাড়া ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তারা সমস্যায় পড়ছেন। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ হিসেবে উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়নি। এর প্রতিবাদ করায় কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কয়েকদিন ধরেই কারখানাটিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে।
এ বিষয়ে করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাউর রহমান খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।