রাঙ্গামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বরকলে পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে।  এতে শতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

আজ রোববার বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভারী বর্ষণের ফলে এই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে শনিবার থেকে লোক বাড়ছে। আজ ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন মানুষ আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়ন বন্যায় বেশি প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে শুভলং ইউনিয়নও প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে পানির তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 

ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিম ডেইলি স্টারকে বলেন, শনিবারের ভারী বর্ষণের ফলে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে বন্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ১, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়নের ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৭৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। গতকাল তাদের ৩৫ প্যাকেট শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বন্যার কারণে ভূষণছড়া ইউনিয়নের প্রায় ৪৪টি গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

বরকল উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

বড় হরিণা ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রতিবিন্দু চাকমা জানান, ইউনিয়নের কুকিছড়া বাজারসহ বহু দোকানপাট তলিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো সহায়তা বা ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি। তবে বড় হরিণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আজ রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন অবস্থান করছেন। পানিবন্দি রয়েছেন জেলার ১ হাজার ৪৪টি পরিবার। পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে ১৩১টি স্থানে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।