সরকার বিভিন্ন দলকে দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে দমন করার জন্য সরকার নতুন নতুন ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত, কিন্তু দ্রব্যমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, টকশোতে বিরোধীদল ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যত বেশি কথা, ততই পদোন্নতি হচ্ছে। অথচ জনদুর্ভোগের দিকে সরকারের কোনো নজর নেই।
সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই জনদুর্ভোগ, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সুফলভোগীরা রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ রান্না করতে পারছে না, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি, আমদানি নির্ভরতা এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে বিনিয়োগের অভাব বর্তমান সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ ও রশিদপুরসহ প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, চলতি বছরের জুনে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। একইসঙ্গে ‘ভুতুড়ে বিল’ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রকৃত ব্যবহার না হলেও অনেক গ্রাহককে দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিত্যপণ্যের দাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি বলেন, চাল, ডাল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচা মরিচসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
সরকারকে উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধান ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির বদলে জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেন।