ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান, যাওয়া হবে বাড়ি বাড়ি

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবেন স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করার পাশাপাশি মানুষকে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করা হবে।

তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে এ অভিযানে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক সভায় তারেক রহমান এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।

অভিযানের আওতায় মহানগর এলাকায় কার্যক্রম সমন্বয় করবে সিটি করপোরেশনগুলো। জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম তদারক করবেন জেলা প্রশাসকেরা। আর উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি সমন্বয় করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), রোভার স্কাউট এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও এ কর্মসূচিতে যুক্ত হবে।

মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারের ওপর জোর দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যেন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।