গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা, ৭ দিনের রিমান্ডে
সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে গত সপ্তাহে ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার উত্তরা পশ্চিম থানায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের (৪৪) বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মেজবা উদ্দিন।
পরে রবিউলকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ দোহা সুমন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২৩-২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রবিউল ভারতের নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
ডিবি পরিদর্শক মেজবা উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল স্বীকার করেছেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে তিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তবে বেশিরভাগই ছিল পর্যটন ভিসা।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের আড়ালে রবিউল গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত ছিলেন এবং বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন।
তদন্তকারীদের তথ্যমতে, রবিউল ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশে অবস্থান করেন।
ডিবির অভিযোগ, রাবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, নিষিদ্ধ এলাকা ও স্পর্শকাতর সরকারি নথি বা তথ্যের ছবি বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তদন্তকারীরা আরও জানান, তার পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টে থাকা জন্মতারিখের মিল নেই। জিজ্ঞাসাবাদে রাবিউল অসংলগ্ন উত্তর দিয়েছেন। বারবার বাংলাদেশে আসার সুনির্দিষ্ট কারণও তিনি জানাতে পারেননি।