ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ-গুলি, আহত ১০
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও ইটভাটার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকেও উভয়পক্ষের লোকজন দুই দিকে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ছামেদ আলী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং ধলেশ্বরী নদীর তীরের ইটভাটায় শ্রমিক ও মাটি সরবরাহের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে আকবরনগরের পাশের গ্রাম চরবক্তাবলীতে ইউনিয়ন কৃষকদলের উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজবিরোধী মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হালিম আজাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সভা শেষে দুপুরে অনুসারীদের নিয়ে আকবরনগর গ্রামে ছামেদ আলীর বাড়ির সামনে মহড়া দেন হালিম। এ সময় ছামেদ আলীর লোকজনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় ছামেদ আলীর ছোট ছেলে মো. হৃদয় (২৬) গুলিবিদ্ধ হন। তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অপু কুমার সাহা বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হৃদয়কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই হাসপাতালে বক্তাবলীর আলাউদ্দিন শেখের ছেলে রাজু শেখ (৩০) পায়ে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হন। তাকেও ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক। এছাড়া আহত আকবর নগরের শামসুল (৩২) ও মধ্যনগরের সৌরভসহ (২৮) অন্তত ১০ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত হৃদয় বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপি নেতা হালিম আজাদের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।’
জানতে চাইলে বিএনপি নেতা হালিম আজাদ ডেইলি স্টারকে বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের কৃষকদলের সভা ছিল। কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে ছামেদ আলীর লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ছামেদ আলী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা এবং হত্যা মামলার আসামি। তারপরও তার লোকজন ইটভাটাগুলোতে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। আমরা চাঁদাবাজি বন্ধের পক্ষে। আমরা কোনো হামলার পক্ষে নই।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর হালিম আজাদের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরদিন এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাও হয়।
ছামেদ আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমি আগে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলাম। তবে কোনো পদ-পদবি ছিল না। আগস্টের পর বিএনপির লোকজন আমাদের সব ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করছে। আমার স্ত্রী ছাড়া বাড়িতে কেউ থাকে না। আমাদের সরিয়ে দিয়ে সবকিছুর দখল নিতে চায় হালিম ও তার লোকজন।
আজ সংঘর্ষের পর বিকেল ৩টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছামেদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন ডেইল স্টারকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার ও কিছু টেঁটা জব্দ করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান।