নওগাঁ

বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়ে এমপির বাড়িতে নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বগুড়া

নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে তুলে নিয়ে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) একরামুল বারী টিপুর বাসায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমপির লোকজনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত রোববার দুপুরে আমি উপজেলার প্রসাদপুর বাজারে জনতা ব্যাংকের সামনে একটি দোকানে ছিলাম। এমন সময় এমপির পার্সোনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, গোল্ডেন, মকবুলসহ ৮-১০ আমার কাছে এসে চাঁদা চায়। পরে তারা আমাকে কিলঘুষি মারতে মারতে কাছেই এমপির বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি ছোট রুমে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠ দিয়ে আমাকে প্রায় এক ঘণ্টা নির্যাতন করে। সেসময় তারা বলেন, আমি যেন উপজেলা বিএনপির প্রধান প্রধান নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা না করি। তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।'

আজাদ আরও বলেন, 'ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এমপির বাড়ির গেটে জড়ো হলে তারা আমাকে ওই বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা আমাকে একটি ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে মৌখিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে বলি। পরে পরিবারের লোকজন আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।'

বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিকেলে নওগাঁ শহরের মুক্তি মোড় এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন মান্দা উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। এসময় লিখিত বক্তব্যে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, এর আগে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদল সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে শামসুল ইসলাম বাদল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত নির্বাচনে একরামুল বারী টিপু সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরদিন ১৩ ফ্রেব্রুয়ারি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমি নতুন এমপিকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে এমপির দুজন লোক আমাকে মারধর করেন।'

আজাদকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে এমপি টিপুর পিএস দাবি করেন অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যারা অভিযোগ দিয়েছে তাদের কাছে শোনেন। আমি বলব না। আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে।'

মন্তব্য জানতে নওগাঁ-৪ (মান্দা উপজেলা) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য একরামুল বারী টিপুকে ফোন করা হলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা বাড়িতে শুধু ২ জন থাকি। আমি আর আমার স্ত্রী। সংসদ অধিবেশনের জন্য আমরা দুজন গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায়। আমার বাড়িতে কীভাবে টর্চার করে?'

'যে উপজেলা দপ্তর সম্পাদককে মারধরের কথা বলা হয়েছে তিনি দুই নম্বর লোক। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। সে এক ব্যক্তি হয়ে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছে ঋণ নিয়েছে। সম্ভবত ব্যক্তিগত বিষয়ে কেউ তাকে মারধর করে থাকতে পারে,' বলেন তিনি।

এমপি টিপু আরও বলেন, 'যারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা গত নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। এখন তারা আমার সম্মানহানি করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছে।'

'আমি এখনো কাউকে পিএস বা এপিএস নিয়োগ দেইনি। দলের যে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে,' বলেন তিনি।

এমপি আরও বলেন, 'আমার বাড়িতে নির্যাতনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরেজমিন তদন্ত করতে পারে। আর যে সাংগঠনিক সম্পাদক আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন তাকে বলেন যে, এই ঘটনা আগে কেন অভিযোগ করেনি। এখন কেন করছে? আমি কি ওইদিন তার সঙ্গে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছি?'

জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি আমরা শুনেছি। কিন্তু এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।