একদলীয় শাসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি: জামায়াত আমির
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে সরকারকে সরে যেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এলেও বিএনপি এখন সেই পথ থেকেই সরে যাচ্ছে এবং একদলীয় শাসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—হয় আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’
তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে ফ্যাসিবাদী আমলের অপরাধের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে গেছে।’
তার দাবি, গত চার মাসে ছয় শতাধিক মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন, এমনকি বিএনপির কর্মীরাও দলীয় সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘যাদের নিজেদের কর্মীদের প্রতিই দায়বদ্ধতা নেই, তারা ২০ কোটি মানুষের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিএনপির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না। আওয়ামী লীগের সময়ের গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করুন।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। কাকে খুশি করার জন্য, কোন সত্য আড়াল করার জন্য এই বিলম্ব—জনগণ তার জবাব চায়।’
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু কোনো আদর্শকে হত্যা করা যায় না।
একইসঙ্গে জামায়াতের আদর্শ নির্মূলের চিন্তা থেকে বিএনপিকেসরে আসার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।
‘নির্মূলের রাজনীতি এক ধরনের ভাইরাস। ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দলীয়করণের এই ভাইরাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে’, বলেন তিনি।
দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের দিকে কেউ লাল চোখে তাকাতে পারবে না। কোনো কালো হাত বাড়ালে সেই হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ, জেলা প্রশাসন, এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেও দলীয়করণ চলছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘সংসদে যতদিন জনগণের স্বার্থে কথা বলার সুযোগ থাকবে, ততদিনই জামায়াত সেখানে থাকবে। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে এক সেকেন্ডও সংসদে থাকবে না।’
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে হওয়া হতাশাজনক।’
তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাবের অভিযোগ তুলে প্রধান প্রসিকিউটরের পদত্যাগ দাবি করেন। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিচার নিশ্চিত না হলে সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল—বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গঠন এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘রক্তের বিনিময়ে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদকে আর কোনো রূপেই বাংলাদেশে ফিরতে দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।