সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্মের সাহস কেউ করবে না: শফিকুর রহমান

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীর মিরপুরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না।

আজ সোমবার বিকেলে কেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেবেন আপনারা, এটা জনগণ দেখতে চায় না। সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়ার নাটক আমরা দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে যেখানে-সেখানে ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপমান করা হচ্ছে। এভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে না।

‘স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান কাঠামোতে যে জনবল থাকা দরকার, তার অর্ধেকই নেই। সেই অর্ধেক জনবল নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা চলছে। সুতরাং সব জায়গায় সরকারকে অবশ্যই মানবিক ও যৌক্তিক আচরণ করতে হবে। আর এই সমস্ত দুর্বৃত্তপনা বন্ধ করতে হবে,’ বলেন তিনি।

রাড্ডা কেন্দ্রের হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ না পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত তিন-চার দিনে রাজধানীতে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে।

মোহাম্মদপুরে বাড়ি দখলের জন্য দিনের বেলা চাপাতি ও অস্ত্র হাতে একদল দুর্বৃত্ত হানা দিলেও তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই বাড়ির লোকজন এখনো ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলেও জানান।

ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, একজন জুলাইযোদ্ধার স্টুডিও হামলা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে এটিকে চাঁদা চাওয়ার ঘটনা নয়, জমিজমার বিরোধের ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

‘জমিজমার সমস্যা নিয়ে রাত দুইটা-একটার সময় হানা দেওয়ার বিধান সংবিধানের কোথায় আছে?’ প্রশ্ন করেন তিনি।

কারো বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার যথাযথ পন্থা আছে। তাই বলে কারো সম্পদের ওপর এ ধরনের গুন্ডা-সন্ত্রাসীরা হাত দেবে—তার কোনো সুযোগ নেই।’

এসব ঘটনায় বিরোধীদলকে জড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

‘এই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন আমাকে ক্ষমা না করে। আমাকেও যেন আইনের আওতায় নেয়,’ বলেন শফিকুর রহমান।

‘আমরা দেখতে চাই, এ ধরনের অপকর্মের কবর রচনা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান জামায়াত আমির।

এ ছাড়া, রাড্ডা কেন্দ্রের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এই সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে জানিয়ে বলেন, ‘এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাও করব, ইনশাআল্লাহ।’

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেন। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।