জামায়াতের কাছে ৪০ আসন চায় এনসিপি
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) এ পর্যন্ত ২৯টি সংসদীয় আসন দিয়েছে। তবে এনসিপির দাবি, এসব আসনের অন্তত ২১টিতে এখনো জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি।
এনসিপির প্রার্থীদের সুযোগ দিতে ইতোমধ্যে আটটি আসনে জোটের শরিক দলগুলো তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি আরও বেশি আসন পেতে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এনসিপি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, আমরা ৩৫ থেকে ৪০টি আসনের জন্য আলোচনা করছি। আশা করছি দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
জোটসূত্রে জানা গেছে, আটটি আসনে জোটসঙ্গীরা প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। এগুলোর মধ্যে আছে ঢাকা-১১, যেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থী হবেন। ঢাকা-৮ আসন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, রংপুর-৪ আসনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন, পঞ্চগড়-১ আসনে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আতিক মুজাহিদ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন এবং নোয়াখালী-৬ হান্নান মাসউদ প্রার্থী হবেন।
এই ২৯টি আসনের বাইরে আরও তিনটি আসন ঢাকা-৯, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও বাগেরহাট-৩ নিয়েও আলোচনা চলছে। এনসিপির পক্ষ থেকে এসব আসনে যথাক্রমে জাবেদ রাসিন, আতাউল্লাহ ও মোল্লা রহমাতুল্লাহর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে এখনো মতভেদ আছে।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, নিশ্চিত হওয়া আসনগুলোর পাশাপাশি দলটি আরও অন্তত ১০টি আসনের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে মোট প্রায় ৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে এনসিপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না, তার ওপর চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, চরমোনাই যদি জোটে না থাকে, তাহলে আমরা প্রায় ৪০টি আসনে নির্বাচন করব। আলোচনা এখনো চলছে। আশা করছি ১৯ জানুয়ারির আগেই আমাদের আসন বরাদ্দ চূড়ান্ত হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে এনসিপির সূত্র জানায়, তাদের নিশ্চিত প্রার্থীতালিকায় জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা একাধিক ছাত্রনেতার পাশাপাশি দলীয় সংগঠক ও পেশাজীবীরাও আছেন।
রাজধানীতে প্রার্থী না দেওয়া আসনগুলোর বাইরেও এনসিপি কয়েকজন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। সদ্য জাতীয় পার্টি ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া তারেক মোহাম্মদ আদেল ঢাকা-৭ থেকে এবং আরিফুল ইসলাম ঢাকা-১৮ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দিলশানা পারুল ও নাবিলা তাসনিদ যথাক্রমে ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
ঢাকার বাইরে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ও পেশাজীবী কয়েকজন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২ থেকে এবং জোবাইরুল হাসান আরিফ চট্টগ্রাম-৮ থেকে নির্বাচন করবেন।
অন্য নিশ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সিলেট-৩ থেকে ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, গাজীপুর-২ থেকে আলী নাছের খান, লক্ষ্মীপুর-১ থেকে মাহবুব আলম মাহির, নোয়াখালী-২ থেকে সুলতানা মুহাম্মদ জাকারিয়া, মৌলভীবাজার-৪ থেকে প্রীতম দাশ, টাঙ্গাইল-৩ থেকে সাইফুল্লাহ হায়দার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে আশরাফ মাহদী, শেরপুর-১ থেকে লিখন মিয়া, চুয়াডাঙ্গা-১ থেকে মোল্লা ফারুক এহসান এবং নাটোর-৩ থেকে জার্জিস কাদির।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে সাইফ মোস্তাফিজ, দিনাজপুর-৫ থেকে আব্দুল আহাদ, গোপালগঞ্জ-৩ থেকে আরিফুল দাড়িয়া এবং বান্দরবান থেকে সুজা উদ্দিন এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।