আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতিতে ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশে আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি, পূর্বাভাসভিত্তিক মানবিক সহায়তা এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘প্রোটোকল অ্যান্ড ট্রিগার-বেজড ইনস্টিটিউশনাল সিস্টেমস ফর টাইমলি হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন (প্রতিষ্ঠা)’ নামে নতুন একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা সংস্থা ডিজি ইকোর অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে কেয়ার বাংলাদেশ। কনসোর্টিয়ামের অন্য সদস্যরা হলো অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ), অ্যাকটেড এবং কারিগরি সহযোগী রাইমস। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে ইএসডিও, নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও উত্তরণ।

সোমবার কেয়ার বাংলাদেশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো, সরকার নেতৃত্বাধীন দুর্যোগপূর্ব আগাম কার্যক্রম, সতর্কবার্তা এবং সময়োপযোগী মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রকল্পটি নদীবিধৌত বন্যাপ্রবণ এলাকা, হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করবে। মৌসুমি বন্যা, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বহুমাত্রিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করাই এটির লক্ষ্য।

প্রকল্পের আওতায় ৮৭ হাজার ১৬১ জন উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি লিঙ্গসমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রোববার রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম সফিকুল হায়দার বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য সমন্বিত ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।’

তার ভাষ্য, ‘এই উদ্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এসিএফের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর তপন কুমার চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণিত কৌশল, নীতি ও কার্যপ্রণালীগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সমন্বয় সাধন করা, যাতে বাংলাদেশে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়।’

পরে কেয়ার বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ফুয়াদ উর রব্বি প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ‘ফোরকাস্ট-টু-অ্যাকশন’ পদ্ধতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে প্রভাবভিত্তিক পূর্বাভাস ও সময়োপযোগী সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন এবং ডিজি ইকোর প্রোগ্রাম অফিসার মোকিত বিল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এমেবেট মেনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার এবং অংশীজনদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টেকসই ও কার্যকর সহযোগিতা পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

আগামী দুই বছরে প্রকল্পটি আগাম সতর্কবার্তার বিস্তৃত প্রচার, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।