রঙ-তুলির আঁচড়ে ‘দুষ্কাল’ থেকে উত্তরণের প্রতিবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

একের পর এক ধর্ষণ, নিপীড়ন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু- দেশে এ এক অন্যরকম দুষ্কাল চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দাবিতে চিত্রশিল্পীরা বেছে নিলেন শিল্পের মাধ্যম।

সিলেটের ১২ জন চিত্রশিল্পী রঙ আর তুলির ছোঁয়ায় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুললেন সাম্প্রতিক নানা ঘটনার প্রতিবাদী চিত্র।

আজ (শুক্রবার) বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ব্যতিক্রমী শৈল্পিক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে সিলেটে নবগঠিত নাগরিক মোর্চা ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’।

প্রতিবাদী এ কর্মসূচিতে শিল্পীর রঙ-তুলিতে ফুটে ওঠে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, পুলিশ ফাঁড়িতে পিটিয়ে রায়হানকে হত্যাসহ সাম্প্রতিক নানা ঘটনা। এ দুষ্কাল থেকে উত্তরণের দাবিও ফুটে উঠে সেসব চিত্রকর্মে।

শৈল্পিক এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছবি এঁকে প্রতিবাদ জানান চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাশগুপ্ত, শামসুল বাসিত শেরো, সত্যজিৎ চক্রবর্তী, ইসমাইল গনি হিমন, আলী দেলওয়ার, মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ, করুন দাস কিরণ, আব্দুল মালেক, শাহিন আহমদ, সুমিত্রা সুমি, মেঘদাদ মেঘ এবং আহমেদ ইয়াসিন।

প্রতিবাদী এ কর্মসূচিকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশে দেবাশীষ দেবুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র সংগঠক আব্দুল করিম কমি, আশরাফুল কবির, ইন্দ্রাণী সেন সম্পা, দেবব্রত চৌধুরী লিটন, রাজীব রাসেল, নিরঞ্জন সরকার অপু, হিতাংশু কর বাবু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক ধর্ষণ, নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটেই চলছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব ছিল যাদের ওপর, সেই পুলিশ সদস্যরাই জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে। পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন চালিয়ে মানুষকে মেরে ফেলা হচ্ছে।

তারা বলেন, এইসব অনাচার-অবিচার চলতে দেওয়া যায় না। আমরা এসব অপকর্মের প্রতিবাদে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই রং-তুলিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই সময় অতিক্রম করে একটি উন্নত সাংস্কৃতিক ও শিল্পিত সমাজই আমাদের প্রত্যাশিত।

সংগঠকরা জানান, এসব ছবি নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মীরা বাদ্যযন্ত্র সহযোগে আগামী রোববার সকাল ১১টায় সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করবেন।