রাজশাহীতে চিকিৎসকের নমুনা ওষুধ বিক্রির রমরমা ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য চিকিৎসকদের নমুনা ওষুধ দেওয়া হলেও রাজশাহীতে তা বিক্রির জন্য মেডিসিন মার্কেটে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসকরাই নমুনা ওষুগুলো দীর্ঘ দিন ধরে নামমাত্র দামে বিভিন্ন ‍ওষুধের দোকানে বিক্রি করে আসছেন। পরবর্তীতে সেগুলো সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) যাচ্ছে রোগীদের হাতে।

গতকাল রাতে শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মডার্ন মেডিসিন মার্কেটে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে এই অভিযোগের সত্যতা মেলে।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান মারুফ বলেন, চিকিৎসকের নমুনা ‍ওষুধের দোকানে সরবরাহ করা এবং রোগীদের কাছে বিক্রি করা দুটিই দণ্ডনীয় অপরাধ। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নমুনা ওষুধ সরবরাহ করেন যেন চিকিৎসকরা নির্বাচন করতে পারেন কোন ওষুধ কতটা কার্যকর।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় রাত ৮টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান চলে। মডার্ন মেডিসিন মার্কেটের অন্তত তিনটি দোকানে চিকিৎসকের নমুনা ওষুধ বিক্রি হতে দেখা যায়। অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন দোকান মালিককে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

এর মধ্যে আনোয়ারা ফার্মেসিতে মজুদ ওষুধের সিংহভাগই ছিল চিকিৎসকের নমুনা। দোকানটিতে প্রায় সাত লাখ টাকার ওষুধ ছিল। আনোয়ারা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হাতে ৮০ জন চিকিৎসক ও দালালের নামের তালিকা এসেছেন, যারা নিয়মিত বিভিন্ন দোকানে চিকিৎসকের নমুনা ওষুধ সরবরাহ করেন। অভিযান চলাকালে একটি দোকানের স্বত্বাধিকারী জানিয়েছেন, নমুনা বিক্রির জন্য চিকিৎসকরা তাদের বাসায় এবং চেম্বারে ডাকেন। কখনো কখনো দালালরা চিকিৎসকের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনেন। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ দামে ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। বিক্রি হয় সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে।

পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নমুনা ওষুধ কেনার পরে সেগুলো ভিন্ন প্যাকেটে পুরে বিক্রি করা হতো। অভিযানে আরও দুটি ওষুধের দোকান— বিসমিল্লাহ ফার্মেসি ও মা-বাবা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারীকে একই কারণে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্তত চার জন ফার্মেসির মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।

তবে নমুনা ওষুধগুলো জব্দ করা হয়নি। হাসান মারুফ বলেন, দোকান মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ওষুধগুলো যেন ফেরত দিয়ে আসেন। এই অভিযান ছিল চিকিৎসক এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্ক বার্তা।