নাইটক্লাব বিতর্কে সতর্কবার্তা পেলেন ব্রুক-বেথেল
নিউজিল্যান্ড সফরে নাইটক্লাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনার জেরে এবার কড়া সতর্কবার্তার মুখে পড়লেন ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এবং তাঁর সতীর্থ জ্যাকব বেথেল। ভবিষ্যতের আচরণের বিষয়ে তাদের দুজনকে সতর্ক করে দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ক্রিকেট রেগুলেটর'।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১ নভেম্বর। ওয়েলিংটনে একটি ওয়ানডে ম্যাচের আগের রাতে স্থানীয় এক নাইটক্লাবের বাউন্সারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান ব্রুক। বিষয়টি প্রায় দুই মাস পর প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে ব্রুক দাবি করেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি একাই ছিলেন। পেশাদারিত্ব ভঙ্গের এই ঘটনায় ইসিবি তাকে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করার পাশাপাশি চূড়ান্ত সতর্কবার্তাও দিয়েছিল।
পরবর্তীতে অবশ্য নিজের ভুল স্বীকার করেন ব্রুক। তিনি জানান, সতীর্থদের বাঁচানোর জন্যই তিনি মিথ্যা বলেছিলেন এবং সেদিনের ঘটনায় তার সঙ্গে জ্যাকব বেথেল ও ফাস্ট বোলার জশ টাংও উপস্থিত ছিলেন। সত্য স্বীকার করে জনসমক্ষে ক্ষমাও চান ইংলিশ অধিনায়ক।
তবে মজার ব্যাপার হলো, ওই ঘটনার পরের দিনই মাঠে নামেন ব্রুক ও বেথেল। সেই ম্যাচে ২ উইকেটে হেরে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায় ইংল্যান্ড। সেসময় জশ টাং ওয়ানডে স্কোয়াডে না থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বুধবার এক বিবৃতিতে 'ক্রিকেট রেগুলেটর' জানিয়েছে, পেশাদার আচরণের বিধি ভঙ্গের কারণে ব্রুক এবং বেথেলকে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দুই খেলোয়াড়ই নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতেই, এমন গুরুতর ঘটনার পরও ব্রুকের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নেতৃত্ব ধরে রাখাটা ছিল বেশ সৌভাগ্যের। তার অধীনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল ইংল্যান্ড, যেখানে মুম্বাইয়ে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে ইংল্যান্ড দলের সমালোচনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। অস্ট্রেলিয়ায় ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারের আগে ও পরে দলের বাজে প্রস্তুতি, অপরিকল্পিত একাদশ নির্বাচন এবং 'মদ্যপানের সংস্কৃতি' নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। সিরিজ চলাকালীন অবকাশ যাপনে ইংলিশ ক্রিকেটারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানশালায় কাটানোর ছবি এবং মদ্যপ অবস্থায় বেন ডাকেটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই সফর শেষে ইসিবির পর্যালোচনার পর টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস, কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং ডিরেক্টর অব ক্রিকেট রব কি নিজেদের পদ ধরে রাখতে সক্ষম হন।