ক্রিকেট তো এখন আর নাই, সার্কাস আছে: আফতাব
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রিকেটে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের নাটকীয়তাই যেন এখন বেশি নজর কাড়ছে। ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ থেকে শুরু করে বোর্ডে হঠাৎ পালাবদল, সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট বোর্ড যেন পরিণত হয়েছে এক বিনোদন মঞ্চে। আর এই চলমান পরিস্থিতি নিয়েই তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ড্যাশিং ব্যাটার আফতাব আহমেদ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) দেশের ‘সবচেয়ে বড় সার্কাস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ক্রিকেট বোর্ডে পালাবদল ও রাজনৈতিক ছায়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ঘটে গেছে বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনা। গত মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) হঠাৎ করেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি ভেঙে দেয়। এরপর ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনার জন্য গঠন করা হয় ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।
এই কমিটিতে তামিমের পাশাপাশি এমন অন্তত চারজন সদস্য রয়েছেন, যাদের সাথে সরাসরি ক্ষমতাসীন রাজনীতির যোগসূত্র রয়েছে। কমিটিতে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ এবং ইসরাফিল খসরুর মতো রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়-স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত করায় শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই নিজের চাঁছাছোলা স্বভাবের জন্য পরিচিত আফতাব আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ক্ষোভ উগরে দেন।
'২০০০ টাকার টিকিটও বিফলে যাবে না' বোর্ডের এই সার্বিক অব্যবস্থাপনা এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আফতাব আহমেদ তার মন্তব্যের শুরুতেই বলেন, 'ভাইরে ভাই যে পরিমাণ সার্কাস চলতেছে ক্রিকেট বোর্ডে যদি ২০০০ টাকা খরচ করেও যদি টিকেট কিনেন আপনার ওই টিকেট বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড। আর ক্রিকেট বোর্ডের যারা আশপাশে আছে তারা।'
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুলনা ও মিডিয়ার ভূমিকা খেলার চেয়ে খেলার বাইরের খবর কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে জোরপূর্বক পৌঁছে যায় এবং এ ক্ষেত্রে দেশের মিডিয়ার ভূমিকা কী, তা বোঝাতে আফতাব নিজের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টানেন।
আফতাব বলেন, 'আমেরিকায় আছি তিন বছর। আমেরিকার ক্রিকেট বোর্ড কোথায় সেটাই জানিনা ভাই। ক্রিকেট বোর্ডের মেম্বার কি ওটা জানা তো অনেক দূরের কথা। ক্রিকেট বোর্ডটা একচুয়ালি কোথায় সেটাই জানিনা। ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতেছি প্রতিদিন। এটা হয়তোবা আপনারা বলতে পারেন, আমার ব্যর্থতা। সেজন্য আমি জানিনা। কিন্তু বাংলাদেশের কোন মানুষের ব্যর্থতা নাই। কেন জানেন? আপনি না জানলেও আপনাকে জানায় দিবে। আপনি না জানলেও যে মিডিয়ারা আছে ওরা আপনাকে জানায় দিবে। আর এমনভাবে জানাবে ঢোল পিটায় আপনি যদি জানতে নাও চান, তাও আপনি জানবেন।'
ব্যঙ্গাত্মক হলেও তার এই মন্তব্য যেন দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের ভেতরের রক্তক্ষরণেরই প্রতিফলন। চরম আক্ষেপের সুরে দর্শকদের এই 'সার্কাস' উপভোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন ঠিক এভাবে, 'অতএব এ সার্কাস আর কতদিন চলবে জানিনা। ক্রিকেট তো এখন আর নাই। কাজ আছে। তো স্যার কাজটা দেখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনুরোধ জানাইলাম, ধন্যবাদ।'