পূর্বের গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে জোড়াতালির বিপিএল চান না তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অনিয়ম যেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নিয়মিত চিত্র। প্রতি আসরেই মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের নানা কাণ্ডে আলোচিত হয় এই আসর। আর প্রতিবারই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তারা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন এই আসর সংস্কারের বিষয় নিয়ে। তবে বিসিবির নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি না পেলে বিপিএল আয়োজন করা হবে না।

বৃহস্পতিবার মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিপিএলের দ্বাদশ আসর ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

বিপিএল নিয়ে কঠিন মন্তব্য করলেও এই আসরের বিপক্ষে নন তামিম। বরং তিনি বারবার বললেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় টুর্নামেন্ট। তবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ফ্র্যাঞ্চাইজি সমস্যার সমাধান না হলে টুর্নামেন্ট না করাই শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন।

তামিম বলেন, 'আমি বিপিএলের একজন বড় বিশ্বাসী। বিপিএল ইজ আ ফ্যান্টাস্টিক প্রোডাক্ট। কিন্তু জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল করার চেয়ে না করাই ভালো। যদি প্রপার ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, আমার কাছে মনে হয় না বিপিএল করা উচিত।'

তামিমের মতে, বিপিএলের বারবার হোঁচট খাওয়ার পেছনে একটিই কারণ, সঠিক ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন না করা। তিনি বলেন, '১৪ বছরে একটাই টপিক বারবার উঠে এসেছে, ফিন্যান্সিয়াল। টাকা পাচ্ছে না, টাকা দিচ্ছে না। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে সবার আগে দরকার সঠিক ফ্র্যাঞ্চাইজি।'

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহাও এই সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, দ্বাদশ আসরে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে বাকি সবাই ইওআইর (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ব্যাংক গ্যারান্টির জায়গায় চেক দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, 'চেক ইজ আ চেক, ব্যাংক গ্যারান্টি ইজ আ ব্যাংক গ্যারান্টি।'

তামিম জানান, দ্বাদশ বিপিএলে বিসিবির মোট লোকসান ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা, যার বড় অংশই চট্টগ্রাম রয়েলস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বিসিবি টেক ওভার করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, 'এভাবে কয়দিন? আমরা একটা টুর্নামেন্টে নিজেদের ভুলের কারণে এত টাকা লস করছি, এটা মেনে নেওয়া যায় না।'

তামিম এই সংকটের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দৃঢ় ঘোষণা দেন। তার ভাষায়, 'আপনি মিস্টেক করতে পারেন। কিন্তু আপনি জেনে শুনে যে মিস্টেকগুলো করছেন, দ্যাট ইজ আ ক্রাইম, ইন মাই ওপিনিয়ন।'

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে তামিম বলেন, 'তিনি কোন কারণে ১০ কোটি টাকার জায়গায় ৩ কোটি নিয়েছেন? যে ব্যক্তিকে নিষেধ করা হয়েছিল, তাকে কেন ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়েছেন? হি হ্যাজ টু বি অ্যাকাউন্টেবল।'

তবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তামিম বলেন, এটি বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনার পর জানানো হবে।

বিপিএলকে ঘুরে দাঁড় করাতে বিদেশী প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারীদের আনার ওপর জোর দেন তামিম, 'আইপিএল, পিএসএল বা সিপিএলে যারা সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি চালাচ্ছে, তাদেরকে বাংলাদেশে আনতে পারলে লিগের মান আপনা-আপনি বাড়বে। বিপিএল ইকোনমিক্যালি অন্য অনেক লিগের চেয়ে সস্তা, এটা একটা বড় সুযোগ।'

'ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই, এই নীতিটা আমরা কোনো দিন মেইনটেইনই করতে পারিনি। আইপিএলে চাইলেই যে কেউ টিম কিনতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে কালকে ঘুম থেকে উঠেও বিপিএল টিম কেনা সম্ভব। এই সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে,' যোগ করেন বিসিবি সভাপতি।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়ার বিতর্ক এবারই প্রথম নয়, তবে এবার ছাড়িয়ে গেছে আগের সব আসরকে। তামিম বলেন, 'এটি শুধু বিপিএলের ইমেজের প্রশ্ন নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, দেশের ক্রিকেটার এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইরের দেশের মানুষ যখন শোনে বিপিএলে নন-পেমেন্ট ইস্যু, তখন পুরো বাংলাদেশের ওপরেই একটা নেতিবাচক ছাপ পড়ে।'