বিফলে নাহিদের রেকর্ড, ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং প্রায় একাই গুঁড়িয়ে দিলেন নাহিদ রানা। এই গতিময় পেসার গড়লেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। কিন্তু তার অনবদ্য কীর্তি গেল বিফলে। নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায় সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েও একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ল টাইগাররা।

সোমবার হারারেতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। পেসবান্ধব উইকেটে টস জিতে আগে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে মাত্র অলআউট করে দেয় তারা। কিন্তু জবাব দিতে নেমে ৩৩.১ ওভারে স্রেফ ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

জিম্বাবুয়ের ১০ উইকেটের ৮টি নেন বাংলাদেশের পেসাররা। নাহিদের ৬ শিকারের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট পান ৩২ রানে। অন্যদিকে, কন্ডিশনের ফায়দা তুলে বাংলাদেশের পতন হওয়া ১০ উইকেটের সবকটি যায় জিম্বাবুয়ের পেসারদের ঝুলিতে। রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র‍্যাড ইভান্স তিনটি করে এবং ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামুরি দুটি করে উইকেট দখল করেন।

এই ফলের পেছনে জিম্বাবুয়ের বোলারদের সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটারদের অ্যাপ্রোচের দায়ও কম নয়। উইকেট ছুড়ে আসেন বেশ কয়েকজন ব্যাটার। তাদের মধ্যে সৌম্য সরকার, তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের আউট ছিল দৃষ্টিকটু।

দারুণ বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার স্বস্তি বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামার পর দ্রুতই উড়ে যায়। পঞ্চম ওভারের মধ্যে তিন টপ অর্ডার ব্যাটার সাজঘরে ফিরলে বিপর্যয়ে পড়ে তারা। তখন দলের সংগ্রহ কেবল ১৭ রান।

ছক্কার চেষ্টায় ফাইন লেগে ক্যাচ দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়েন থার্ডম্যানে। তাদের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে আরেক ওপেনার সৌম্যও বিলাসী শটে বিদায় নেন ক্যাচ তুলে।

এরপর ৪৯ রানে জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। ১৯তম ওভারে এই জুটি ভাঙার পর আর লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। ফের অযথা  বড় শটের চেষ্টায় জিম্বাবুয়েকে উইকেট উপহার দেন হৃদয়। বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন সোহান। ডিআরএস না থাকায় রিভিউ নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।

হৃদয় ও সোহানের মাঝে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও অধিনায়ক মিরাজ। এরপর লেজের দিকের ব্যাটাররা পারেননি অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে। ফলে বাজে হারে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

সফরকারীদের মাত্র তিন ব্যাটার পৌঁছান দুই অঙ্কে। সোহান দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন। হৃদয় করেন ৫৮ বলে ২৫ রান। আর মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ১০ রান।

এর আগে ইনিংসের শুরুটা বেশ ইতিবাচকই করেছিল জিম্বাবুয়ে। ওভারপ্রতি প্রায় ৬ রান তুলে বিনা উইকেটে ৩৬ তুলে ফেলেছিল। তখনই রানআউটের ফাঁদে কাটা পড়েন ওপেনার বেন কারান। এরপর টানা দুই ওভারে জোড়া ধাক্কা দেন তাসকিন। আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা ক্রেইগ আরভাইনকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

ইনিংসের বাকি অংশটুকু ছিল শুধুই নাহিদের। তার পেস যেন সামলাতেই পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৫ থেকে ৭০— এই ২৫ রান তুলতেই আরও ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। সবগুলোই নিজের পকেটে ঢোকান নাহিদ। জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডারের পাঁচ ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে রান তুলতে পারেননি।

এরপর প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক এনগারাভা ও নিয়ামুরি। নবম উইকেটে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ৬৩ রানের জুটিও ভাঙে নাহিদের হাতেই। ৪১ বলে ২৭ রান করা এনগারাভাকে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ শিকার তুলে নেন এই গতি তারকা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ৫১ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন নিয়ামুরি। তাকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস মুড়িয়ে দেন মিরাজ।

তবে শেষমেশ এনগারাভা ও নিয়ামুরির ওই জুটিই স্বাগতিকদের জন্য ভীষণ কার্যকর হয়ে ওঠে। আর অল্প পুঁজি নিয়েও নিজেদের অসাধারণভাবে মেলে ধরে জয় ছিনিয়ে নেন তাদের বোলাররা।