পেস নয়, ডারউইনে শান্তদের আসল পরীক্ষা লায়নের স্পিনে?
না অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পেস-বাউন্স নয়, প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা খাবি খেয়েছেন অফ স্পিনে। কোরি রকিচ্চলি নামের অফ স্পিনার একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। এতে করে আভাস মিলছে ভিন্ন চ্যালেঞ্জের। রকিচ্চলি তো দেখিয়েই দিলেন, বাঁহাতি ভরপুর ব্যাটিং লাইনআপে ঘূর্ণি বলে নাজমুল হোসেন শান্তদের বড় পরীক্ষা নিতে পারেন ন্যাথান লায়ন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ২৬৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের ২৬৩ রানের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ একাই করেন ১০৯ রান। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার রকিচ্চলি ৮৩ রানে নেন ৬ উইকেট। তার ৬ উইকেটের চারজনই ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটার।
বাঁহাতিদের বিপক্ষে অফ স্পিনারদের সাফল্যের হার বেশি। বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষেও অফ স্পিনারদের সফলতার হার বেশি। সব মিলিয়ে রকিচ্চলির জন্য ম্যাচ-আপ ছিল জুতসই।
টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে বাঁহাতিদের বারবার পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি। সাদমান ইসলামকে দিয়ে শুরু। আলতো শটে বাংলাদেশের ওপেনার তুলে দেন ক্যাচ। মুমিনুল হক ধরা দেন স্লিপে। মুশফিকুর রহিম সুইপের চেষ্টায় উইকেট ছুড়ে দেন। সৌম্য সরকার সংশয় নিয়ে খেলে ধরা দেন মিড অফে।
বাংলাদেশের টপ অর্ডারের প্রথম চার ব্যাটারই বাঁহাতি। অনুশীলন ম্যাচের কারণে সৌম্যকেও খেলানোয় আটেও ছিলেন একজন বাঁহাতি। স্বাভাবিকভাবে রকিচ্চলির জন্য কাজটা সহজই হয়ে যায়।
মূল ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষায় অজি চ্যাম্পিয়ন স্পিনার লায়ন। ৩৮ পেরোনো স্পিনারের ঝুলিতে আছে ৫৬৭ টেস্ট উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মূল ভেন্যু থেকে ডারউইনের কন্ডিশন কিছুটা আলাদা। বরং এই কন্ডিশনের সঙ্গে মিল আছে উপমহাদেশের উইকেটের। পেসারদের চেয়ে তাই স্পিনারদের সাফল্য বেশি পাওয়া অস্বাভাবিক হবে না। আদর্শ ম্যাচ-আপ আর সহায়ক কন্ডিশনে লায়ন হয়ে উঠতে পারেন বিপজ্জনক।
নতুন বলে মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্সদের গোলা সামলানোর পর লায়নের মায়াবী ঘূর্ণির সামনে পড়তে হবে শান্তদের। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে পেসের চেয়ে বরং স্পিনারদের বিপক্ষেও টাইগার ব্যাটাররা তুলনামূলক বেশি নড়বড়ে। এদিনও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় সারির বোলিং লাইনআপের সামনে ১০৬ রানেই পড়ে যায় ৬ উইকেট। শেষ পর্যন্ত মিরাজ ছিলেন বলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। স্পিনারদের সামলানোও পেসারদের তুলনায় মিরাজের কাছে কিছুটা সহজ, নিজের সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সেঞ্চুরি করে দলের আত্মবিশ্বাস জারি রেখেছেন তিনি।
দিনের খেলা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো ভিডিওতে মিরাজ দেন পুরো দিনের পরিস্থিতির ব্যাখ্যা, ‘প্রথম দিকে একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল উইকেট। আমি শুধু চেষ্টা করেছি, বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার জন্য। খুব ভালো জায়গায় বোলিং করেছে ওরা। আমার জন্য একটু কঠিন ছিল, যেহেতু এই প্রথমবার এই কন্ডিশনে খেলছি।’
‘আমি চেষ্টা করেছি উইকেটে মানিয়ে নিতে এবং জুটি গড়তে। প্রথম দিকে রানের জন্য খেলিনি। চেষ্টা করেছি উইকেটে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। পরে যখন সুযোগ পেয়েছি, রান হয়ে গিয়েছে। এভাবেই চিন্তা করেছি।’'