বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দাপট, ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নের মতো দিন
খেলা শুরুর আগে এমন একটা দিনের ছবি কল্পনায় আনলেও হয়তবা অনেকে বলতেন বাড়াবাড়ি। তবে বাস্তব যেন কল্পনা থেকেও সুন্দর। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হাসান মাহমুদের পেসে দুইশোর নিচে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও নিয়ন্ত্রণ দেখালো বাংলাদেশ। প্রথম দিন শেষে স্কোরকার্ডটা বলছে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ এখন চালকের আসনে।
বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলেছে নাজমুল হোসেন শান্ত দল। সাবলীল ইনিংসে ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক। কোন রান করার আগেই ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া তানজিদ হাসান তামিম অপরাজিত ৩২ রানে। ৯ উইকেট হাতে রেখে প্রতিপক্ষ থেকে কেবল ১০২ রানে পিছিয়ে তারা।
বাংলাদেশের দিনটা মধুর করেছেন মূলত পেসারা, আরও বিশেষ করে বললে হাসান। টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়া অজিদের স্যুইং, মুভমেন্টের পসরায় কাবু করে উড়তে থাকেন তারা। প্রতি সেশনেই হাসানের দাপট স্পষ্ট থাকলেও তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন তাক সঙ্গ দেন দারুণ। সময়মতো উইকেট তুলেছেন তারাও।
ফক্স স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় প্রাক্তন অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার তো বলে উঠেন, ‘এই প্রথম আমি কোন প্রতিপক্ষকে দেখলাম অস্ট্রেলিয়ায় এসে প্রথম দিনেই তাদের চিহ্ন রেখে যেতে।’
ওয়ার্নারের কথা থেকেই পরিস্কার দিনের ছবি। দিনের শুরুর ১১ ওভার কেবল অস্ট্রেলিয়ার। ট্রেভিস হেড-জ্যাক ওয়েদারল্ড মিলে সতর্ক শুরু এনেছিলেন। এরপরই চেপে বসেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান জোড়া সাফল্য আনার পর ইবাদত-তাসকিনের তোপে প্রথম সেশনে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। ২ রানে স্মিথের ক্যাচ তানজিদ স্লিপে না ফেললে তখন আরও খারাপ দেখাত অজিদের স্কোরকার্ড।
বাকি দুই সেশনে স্মিথই যা রান বাড়িয়েছেন। দ্বিতিয় সেশনে ১০৯ রান তুললেও আরও ৪ উইকেট হারায় অজিরা। চা-বিরতির পর ত দ্রুত মুড়ে দিতে দেরি করেননি হাসান। ডানহাতি পেসার বল ভেতরে ঢুকিয়েছেন, বের করেছেন। ফাঁদ তৈরি করে ব্যাটারদের জীবন করেছেন দুর্বিষহ। সেইসঙ্গে অজিদের কিছু বাজে শটেরও ভূমিকা ছিলো।
৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েন। টেস্টে তার আগের দুই পাঁচ উইকেট ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মাঠে। এতে বোঝা যায় হাসানের দেশের বাইরের কার্যকারিতা।
অজিদের অল্প রানে আটকে শুরুতে বিপদে পড়তে পারত দল। তানজিদ দিয়েছিলেন লোপ্পা ক্যাচ। ন্যাথান লায়ন তা রাখতে পারেননি। দুই ওপেনার পরে সতর্ক হয়ে যান। নবম ওভারে গিয়ে মিচেল স্টার্কের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে আউটসাইড এজে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম (২০)। এরপর আর কোন বিপর্যয় নয়, এমনকি আর কোন সুযোগই দেননি মুমিনুল-তানজিদ।
এই টেস্টে এখন একটা জুতসই লিডের স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ দল।
