অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আত্মতুষ্ট নন শান্ত, ‘ওটা পাস্ট হয়ে গেছে’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ে যে কোনো দলের জন্য সেটি আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। তবে সেই জয় নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নয় বাংলাদেশ। ডারউইনে যা হয়েছে, সেটিকে এখন অতীত বলেই নতুন করে শুরু করতে চান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের দিন তাই শান্তর মুখে আত্মতুষ্টির বদলে সতর্কতার সুর, ‘ওটা পাস্ট হয়ে গেছে।’
প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে একতরফাভাবে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে পাওয়া সেই জয় স্বাভাবিকভাবেই দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের আগে সেই আত্মবিশ্বাস যেন অতি আত্মবিশ্বাসে রূপ না নেয়, সেদিকেই নজর শান্তর।
ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘এরকম একটা জয় তো অবশ্যই আপনাকে কনফিডেন্স দেবে। কিন্তু প্রফেশনাল প্লেয়ারের খুব তাড়াতাড়ি ওইখান থেকে বের হয়ে আসাটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট।’
ডারউইনের জয়কে নিয়ে বেশি দূর এগিয়ে যেতে চান না তিনি, ‘ওইটা পাস্ট হয়ে গেছে আসলে। এখন এই কন্ডিশনে আমরা কিভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, এই কন্ডিশনের সঙ্গে কিভাবে আমরা অ্যাডজাস্ট করতে পারি, এটা নিয়ে গত দুই দিন আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।’
শান্তর কথায় পরিষ্কার, প্রথম টেস্টের ফল নিয়ে পড়ে না থেকে ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ দুই ভেন্যুর কন্ডিশনেও রয়েছে পার্থক্য। ম্যাকাইয়ের উইকেটে ডারউইনের চেয়ে একটু বেশি বাউন্স পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বাতাসও এখানে বোলারদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন শান্ত।
সেই ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গত দুই দিন অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। অধিনায়কের দাবি, খেলোয়াড়রাও আগের ম্যাচের আবেগ থেকে বেরিয়ে এসে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছেন।
‘আমি মনে করি, এই দুই দিনের প্র্যাকটিসে প্লেয়াররা খুব ভালোভাবেই অ্যাডজাস্ট করেছে। ওই জায়গা থেকে বের হয়ে এসে আবার নতুন করে এই টেস্ট ম্যাচটা শুরু করবে,’ বলেন শান্ত।
প্রথম টেস্টের জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে এখন সিরিজ জয়ের সুযোগ। তবে সেটিকে সামনে রেখে ফল নিয়ে আগেভাগে ভাবতে চান না অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া, এমন আলোচনাও তাকে খুব বেশি ভাবাচ্ছে না। শান্তর পরিকল্পনা বরং অনেক সহজ, একটি দিন, একটি সেশন করে এগিয়ে যাওয়া।
‘এত দূরে চিন্তা করতে চাই না। প্রথম থেকে যে কথাটা বলে আসছি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, একেকটা দিন, একেকটা সেশন আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলছি,’ বলেন তিনি।
প্রক্রিয়াটা ঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলে ফলাফল এমনিতেই আসবে বলে মনে করেন শান্ত ‘আমার মনে হয়, যদি প্রসেসটা ঠিকমতো ফলো করি, আমরা প্রত্যেকটা সেশন বাই সেশন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। রেজাল্ট অটোমেটিক্যালি আসবে।’