একই নাটকের পুনরাবৃত্তি: এশিয়া কাপ জিতে ট্রফি ছাড়া ফিরল ভারতের মেয়েরাও

স্পোর্টস ডেস্ক

গত বছর এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি না নিয়ে ফেরেছিলো ভারতের পুরুষ দল। এবার সূর্যকুমার যাদবদের মতো একইরকম দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো হারমানপ্রীত কাউরের দলের সঙ্গে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) প্রধান মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত, নাকভিও অনড় থেকে ফের ট্রফি না দিয়ে চলে যান। 

রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নিজেদের করে নেয় ভারত। তবে ট্রফি জয়ের উল্লাস হলেও ট্রফিটা আর তাদের হাতে ওঠেনি। 

মূল জটিলতা তৈরি হয় এসিসি সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নকভিকে কেন্দ্র করে। ফাইনাল ম্যাচের শেষ বলটি হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন তিনি। চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে তিনি অনড় থাকলে এতে প্রবল আপত্তি জানায় ভারতীয় দল। নাকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় রাজনৈতিক কারণে তার হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। 

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের পুরুষ দল ঠিক যেভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এবার নারী দলও একই অবস্থান ধরে রাখে। ফলে পুরস্কার বিতরণী আয়োজন পিছিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে করা হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি হস্তান্তর ছাড়াই শেষ হয় তা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রস্তাব ছিল, এসিসির সহ-সভাপতি খালিদ আল জারুনি যেন চ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেন। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে নকভি সেই প্রস্তাবে সায় দেননি।

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কার হাতে রানার্স-আপ চেক তুলে দেন নকভি নিজেই। তার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এসিসি সহ-সভাপতি খালিদ আল জারুনি, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ট্রান্সফরমেশন কমিটির প্রধান এরান বিক্রমারাত্নে, এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মুবাশ্বির উসমানি এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিনিধি।

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ও সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকলেও নকভির সঙ্গে মঞ্চে যাননি। তারা মাঠে নেমে ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাককে সূত্র জানায়, ‘পুরোনো নাটকেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। নকভি নিজে ট্রফি দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভারতীয় দল তাতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত ট্রফি হস্তান্তর ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ করার সমঝোতায় আসতে হয়। ফলে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা ট্রফি বা মেডেল—কোনোটাই পাননি।'

বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় নারী দলের প্রধান কোচ অমল মজুমদার বলেন, ‘বিসিসিআই যে অবস্থান নিয়েছে, দল পুরোপুরি তার সঙ্গে আছে। আমাদের জন্য এই টুর্নামেন্ট এখানেই শেষ। আমরাই চ্যাম্পিয়ন—এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। জায়ান্ট স্ক্রিনে স্পষ্ট লেখা ছিল ভারত এশিয়া কাপ ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন। আমরা সত্যিই আনন্দিত ও দলের সবাইকে নিয়ে গর্বিত। এখন আমাদের চোখ এশিয়ান গেমসে।’

গত বছর পহেলগাম হামলা ও পরবর্তী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পুরুষদের এশিয়া কাপ। এক বছর কেটে গেলেও দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে বরফ গলেনি, আর বিসিসিআই-ও তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসেনি।