‘পিকনিক লিগ’ থেকে টেস্ট সংস্কৃতির বিকাশের পথ করবে জাতীয় লীগ?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অধিনায়কদের হাতে ঐতিহ্যবাহী 'ব্যাগি ক্যাপ' তুলে দেওয়া, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন আর কুকাবুরা বলের পুনর্ব্যবহার—সব মিলিয়ে ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বইছে নতুন হাওয়া। এই উদ্যোগগুলোর মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রথম শ্রেণীর ঘরোয়া ক্রিকেট পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের টেস্ট সংস্কৃতি শক্তিশালী করা।

চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক ইয়াসির আলী চৌধুরীর মতে, ‘যারা টেস্ট ক্রিকেটকে সত্যিকারের ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই ব্যাগি ক্যাপের মর্যাদা অনেক।’

বুধবার অধিনায়কদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসির বলেন, ‘২০১২ সালে অভিষেক হলেও এনসিএলে এই ধরনের অনুষ্ঠান আমি প্রথমবার দেখছি। আয়োজনের কথা শুনে খুব রোমাঞ্চ অনুভব করছিলাম। বাংলাদেশে প্রথমবার এমনটা হচ্ছে, তাই সবাই এখন জাতীয় দলের মতোই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকবে।’

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মূল্যায়ন এবং টেস্ট সংস্কৃতি তৈরিতে এই পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেন সিলেট বিভাগের অধিনায়ক জাকির হাসান, ‘অর্থনৈতিকভাবে খেলোয়াড়দের সমৃদ্ধ করার ফলে ক্রিকেটাররা মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও বেশি মন দিতে পারছেন, যা টেস্ট সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এত দিন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে খুব একটা পাত্তা দেওয়া হতো না, অথচ এটাই টেস্টের মূল পথ। আশা করি, এই উদ্যোগের ফলে সবাই একজন প্রথম শ্রেণীর বা টেস্ট ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অনুধাবন করতে পারবেন এবং বুঝতে পারবেন এই ব্যাগি ক্যাপের সত্যিকারের মান কী।’

বিগত কয়েক বছর ধরে জাতীয় দল ও এনসিএলে মানসম্মত পেস বোলার সরবরাহ করে আসছে সিলেট। অতীতে মাঝেমধ্যেই অবমূল্যায়ন করে এনসিএলকে 'পিকনিক লিগ' বলা হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানকার পেসাররা নিজেদের পারফরম্যান্সের ধারা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

জাকির আরও বলেন, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে আমরা এখন চার নম্বরে। তা ছাড়া ১৩৫-১৪০ কিলোমিটার গতির বল খেলতে এখন আর আমাদের ততটা সমস্যা হয় না। আমাদের দলের সাত-আটজন পেসার নিয়মিত জিম থেকে শুরু করে বোলিং অনুশীলনে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে। এই সংস্কৃতি আমাদের দলকে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই কঠিন করে তুলেছে।’

তবে গত কয়েক মৌসুমে ব্যবহার করা 'ডিউক' বল বাদ দিয়ে কুকাবুরা ফিরিয়ে আনায় বোলারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে ব্যাটসম্যানদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে, পাশাপাশি এতে স্পিনারদের ভূমিকাও আবার কার্যকর হয়ে উঠবে।

কুকাবুরা প্রসঙ্গে জাকিরের বক্তব্য, ‘সবাই ফ্ল্যাট উইকেটের কথা বলে, কিন্তু ঠিকমতো চেষ্টা করলে অমন উইকেটেও বোলারদের কিছু না কিছু করার থাকে। গত বছরের মতো এবারও তীব্র প্রতিযোগিতা হবে।’

অন্যদিকে, রংপুর বিভাগের অধিনায়ক আকবর হোসেনের কাছে এনসিএল হলো নিবেদিতপ্রাণ হয়ে খেলার মঞ্চ। গতবারের চ্যাম্পিয়ন আকবর বলেন, ‘আমাদের দলে বড় কোনো তারকা নেই, তবে দলগতভাবে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলি। সঠিক দিকনির্দেশনা ও শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে খেলতে পারাটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।’

খুলনার অভিজ্ঞ অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন তার অভিষেকের সময়কার ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে বর্তমানের পরিস্থিতির স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন, ‘আমি যখন খেলা শুরু করি, তখন দৈনিক ভাতা ছিল ৮০০ টাকা। সারা মৌসুমে ১০টি ম্যাচ খেললে মিলত মোটে ৫০ হাজার টাকা। এখন নানা দিক থেকেই সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে, জাতীয় দলও টেস্টে ভালো করছে। আশা করি, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিকাঠামো শিগগিরই বিশ্বমানে পৌঁছাবে।’