অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার সেই ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে ভারতের রেকর্ডময় জয়
২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেটে ৪৩৪ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৪৩৮ রান করে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডেতে চারশ ছাড়ানো রান তাড়া করে জয়ের নজির এতদিন ছিল কেবল এই একটিই। এবার অধিনায়ক শুবমান গিলের অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি ও রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে চড়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে তালিকাটিতে নাম লেখাল ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৭ উইকেটে ৪০৫ রানের জবাবে স্রেফ ২ উইকেট হারিয়ে ৪০৬ রান তুলে জিতল তারা।
বুধবার গুয়াহাটিতে রান উৎসবের ম্যাচে ৮ উইকেটের অনায়াস জয় পেয়েছে স্বাগতিক ভারত। টস হেরে আগে ব্যাট করে জন ক্যাম্পবেল, অধিনায়ক শেই হোপ ও আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরির সুবাদে সফরকারী ক্যারিবিয়ানদের গড়া বিশাল পুঁজি তারা পেরিয়ে গেছে ৩৯ বল হাতে রেখে। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই রেকর্ড গড়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।
বলাই বাহুল্য, এই সংস্করণে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটি। আগের কীর্তিটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ২০১৩ সালে জয়পুরে অজিদের ৫ উইকেটে ৩৫৯ রানের জবাবে স্রেফ ১ উইকেট খুইয়ে ৩৬২ রান করে ৯ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছিল তারা। সেদিন সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত ছিলেন রোহিত ও বিরাট কোহলি।
ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বিস্ফোরক ব্যাটিং উপহার দেওয়া গিল। ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূরণের পর মাত্র ১১৭ বলে দ্বিশতক ছুঁয়ে তিনি একাই অপরাজিত থাকেন ২২৩ রানে। ১৩৩ বল মোকাবিলায় তার ব্যাট থেকে আসে ২৬টি চার ও আটটি ছক্কা।
একাদশ ওয়ানডে সেঞ্চুরি হাঁকানো গিলের সঙ্গে রোহিতের ১৬১ বলে ২৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভারত পেয়ে যায় রান তাড়ার শক্ত ভিত। বিশেষ করে, গিলের অতিমানবীয় ইনিংসের কারণে পাহাড়সম সংগ্রহ নিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়াই জমাতে পারেনি একটুও।
এই সংস্করণে গিলের এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। আগেরটি করেছিলেন ২০২৩ সালে, হায়দরাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ওয়ানডেতে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নেওয়া মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার গিল। রেকর্ড তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে রোহিতের নামের পাশে।
৭২ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখা রোহিত আউট হন ১০১ রানে। তার ৭৫ বলের ঝড়ো ইনিংসে ছিল চার ১০টি ও ছক্কা ছয়টি। ওয়ানডেতে এটি তার ৩৫তম সেঞ্চুরি। এরপর কোহলির আগ্রাসী ইনিংস বড় হয়নি। ১৯ বলে তিনটি চার ও একটি ছয়ে ২৯ রান করে বিদায় নেন তিনি। তারপর রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে (৩৭ বলে দুটি চারে অপরাজিত ৩১ রান) নিয়ে বাকি পথ পাড়ি দিয়ে ভারকে স্মরণীয় জয় এনে দেন গিল।
এই নিয়ে রেকর্ড নবমবার ওয়ানডে ক্রিকেটে চারশর বেশি রান করল ভারত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আটবার এই কীর্তি আছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমবারের মতো চারশ রানের মাইলফলকে পা রাখলেও তা যথেষ্ট হয়নি।
শুধু তাই নয়, ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এটি ভারতের টানা ১৪তম ওয়ানডে সিরিজ জয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা এতগুলো সিরিজ জয়ের রেকর্ড নেই আর কোনো দলের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১২টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান।
রোহিত ও গিলের আগে এই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যাম্পবেল, হোপ ও জাঙ্গু। দুই দলের ব্যাটারদের এমন আগ্রাসনে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার একই ম্যাচে দেখা মেলে রেকর্ড পাঁচটি সেঞ্চুরির।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ৬৫ বলে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ক্যাম্পবেল করেন ১০১ রান। ৬৮ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন নয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে ২০তম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন হোপ। ৯০ বলে তিন অঙ্কে পা রেখে তিনি সাজঘরে ফেরার আগে করেন ১০৪ রান। তার ৯৪ বলের ইনিংসে চার আটটি ও ছয় তিনটি। মারমুখী ব্যাটিংয়ে জাঙ্গু ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৭৭ বলে করেন ১১৪ রান। তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৭০ বলে।

