ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে রেনশর ১৯০, বিপর্যয় কাটিয়ে মজবুত অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

দীর্ঘ নয় বছর পর টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিকে নিয়ে গেলেন ডাবল সেঞ্চুরির কাছে। চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে একাই টেনে তুললেন ম্যাট রেনশ। ডারবানের কিংসমিডে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ১৯০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেললেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রানের ভালো সংগ্রহ গড়ল সফরকারীরা।

জবাবে শনিবার নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ২৭ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে স্বাগতিক দল। এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে আছে তারা। এইডেন মার্করাম ২৭ বলে ১৫ ও ডেভিড বেডিংহাম ২২ বলে ১২ রানে অপরাজিত আছেন।

স্বাগতিকদের একমাত্র উইকেটটি শিকার করেন অজি পেসার জশ হ্যাজলউড। তৃতীয় স্লিপে বাউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার রায়ান রিকেলটন। আলোকস্বল্পতার কারণে এদিনের খেলাও কিছুটা আগেভাগে শেষ করতে হয়।

তবে পুরো দিনটি এককভাবে নিজের করে নেন রেনশ। প্রথম দিনে মাত্র ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর কারিগর তিনি। ৩৯৭ বলের অসাধারণ ইনিংসে তিনি মারেন ২১টি চার ও একটি ছক্কা। টেস্টে তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮৪ রান।

৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে অজিরা। প্রথম ঘণ্টায় তাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে (৯৮ বলে ৪৩ রান) দ্বিতীয় স্লিপে মার্করামের ক্যাচে পরিণত করে প্রোটিয়াদের কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু দেন ভিয়ান মুল্ডার। ফলে ভাঙে ১৯১ বলে ৮৬ রানের বিপর্যয় সামলানো জুটি।

এরপর মিচেল স্টার্কও (২৫ বলে ৬ রান) মুল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করার আশা তৈরি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু ন্যাথান লায়নকে নিয়ে সেই আশায় একদম জল ঢেলে দেন রেনশ। দুজনে মিলে যোগ করেন ২৮৬ বলে ১৩৪ রান। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে নবম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড।

২০৪ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শের পর ৩১১ বলে দেড়শতে পা রাখেন রেনশ। পুরো সময়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের মেজাজের পরীক্ষা নিয়ে অনায়াসে রান জমা করতে থাকেন তিনি। মার্কো ইয়ানসেনের বলে লায়ন (৯২ বলে ২৭ রান) এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেও নিজের মনোযোগ ধরে রাখেন তিনি।

শেষমেশ ১৯০ রানের ধ্রুপদী ইনিংস খেলার পর শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন রেনশ। কিংসমিডের মাঠে পাঁচ নম্বরে নেমে যেকোনো টেস্ট ব্যাটারের জন্য এটিই এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ড। চা বিরতির ঠিক পরপরই স্পিনার সাইমন হার্মারের বলে প্রথম স্লিপে মার্করামের তালুবন্দি হয়ে থামেন তিনি।

প্রোটিয়াদের হয়ে তিন পেসার মিলে নেন ৯ উইকেট। মুল্ডার ৬৮ রানে শিকার করেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। ইয়ানসেন ৩ উইকেট পান ৬৮ রানেই। ২ উইকেট যায় আনরিখ নরকিয়ার ঝুলিতে।