আইরিশদের রাশ টেনে ধরার তৃপ্তি নাকি ক্যাচ হাতছাড়ার আক্ষেপ?

By ক্রীড়া প্রতিবেদক
11 November 2025, 10:57 AM
UPDATED 11 November 2025, 17:03 PM

শেষ সেশনে স্পিনারদের বেশ কয়েকটি বল শার্প টার্ন করল, দু'একটা লাফিয়েও উঠল। দলের সেরা স্পিনার তাইজুল ইসলাম পুরো দিন বিবর্ণ থাকার পর একদম শেষ ওভারে পেলেন উইকেট। তবু আয়ারল্যান্ডকে আরও কম রানে আটকে রাখতে না পারার একটা অস্বস্তি হয়ত থেকে গেলো। সেজন্য অবশ্য ফিল্ডিংয়ে পাঁচটা ক্যাচ ফসকানো আসবে আলোচনায়।

মঙ্গলবার সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে স্পষ্ট ব্যবধানে কোন দলকেই এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ৪টা ক্যাচ ফসকালেও আয়ারল্যান্ডের ৮ উইকেট নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা অবশ্য তুলেছে ২৭০ রান।

৮ম উইকেটে মহা গুরুত্বপূর্ণ ৪৮ রানের জুটির পর ফিরে গেছেন অভিষিক্ত জর্ডান নেইল (৬০ বলে ৩০)। ক্রিজে আছেন ব্যারি ম্যাকার্থি (৫৬ বলে ২১)। দ্বিতীয় দিন সকালে দ্রুত ২ উইকেট তুলে আইরিশদের ৩০০ রানের ভেতর আটকে রাখতে বাংলাদেশই ফেভারিট।

টস হেরে বোলিং পাওয়ার পর স্বাগতিক পেসারদের প্রথম সেশনে দেখা গেল ধরালো। তবে মোটা দাগে গোটা দিনে সিলেটের উইকেটে ব্যাট করা ছিলো আদর্শ। সেখানে তিনশোর ভেতর আটকে রাখতে পারলেই ম্যাচের লাগাম ধরে রাখা সহজ।

প্রথম ওভারেই অ্যান্ডি বালবার্নিকে আউট করে দারুণ শুরু। কিন্তু সেটা ভেস্তে যায় টানা তিন ওভার তিনটা ক্যাচ ফসকে যাওয়ায়।

৮ম উইকেটে মহা গুরুত্বপূর্ণ ৪৮ রানের জুটির পর ফিরে গেছেন অভিষিক্ত জর্ডান নেইল (৬০ বলে ৩০)। ক্রিজে আছেন ব্যারি ম্যাকার্থি (৫৬ বলে ২১)। দ্বিতীয় দিন সকালে দ্রুত ২ উইকেট তুলে আইরিশদের ৩০০ রানের ভেতর আটকে রাখতে বাংলাদেশই ফেভারিট।

হাসান স্যুয়িং পাচ্ছিলেন প্রথম থেকে, আরেক পাশে গতির তোড় তুলছিলেন নাহিদ রানা। দুই পেসার মিলে তৈরি করলেন একের পর এক সুযোগ। সেসব হাতছাড়া করার মিছিলও যেন চলতে থাকল। চতুর্থ, পঞ্চম ও ৬ষ্ঠ ওভারে জীবন পান পল স্টার্লিং ও ক্যাডে কারমাইকেল। ৯ রানে দুবার বেঁচে ৬০ রান করেন স্টার্লিং। ১০ রানের জীবন কাজে লাগিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংস ৫৯ পর্যন্ত টেনে নেন কারমাইকেল।

আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে এই দুজনের জুটিই সবচেয়ে বড়। ১৫৫ বলে তারা যোগ করেছেন ৯৬ রান।

লাঞ্চের পর নাহিদ ব্রেক থ্রো আনার পর মেহেদী হাসান মিরাজ এসে নেন পর পর দুই উইকেট।

জোড়া ধাক্কার পর কার্টিস ক্যাম্পের, লোরকান টাকারের জুটিতে আরও ৫৩ রান যোগ করে সফরকারীরা। এই দুজনেই চল্লিশের ঘর পার হয়ে ফিরে যান অসময়ে। বাংলাদেশের অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদই ছাঁটেন তাদের। টাকারকে দারুণ টার্ন-বাউন্সে টেনে এনে করেন স্টাম্পিং, ক্যাম্পার দেন স্লিপে ক্যাচ। অ্যান্ডি ম্যাকব্রিনকেও মুরাদ তুলে নিলে ২২২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল আইরিশরা।

তখন ২৫০ রানও যেন বহু দূরের পথ। তবে টেল এন্ডারও দেখায় দৃঢ়তা। এই জুটিতেও পড়ল এক ক্যাচ। ১ রানে নেইলের ক্যাচ ফেলেন মুশফিক, যিনি পরে যোগ করেন আরও ২৯ রান। জীবন পাওয়া  নেইলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান ম্যাকার্থি। দুজনে মিলে সাবলীল গতিতে এগিয়ে দিন পার করার কাছেই ছিলেন। একদম শেষ বেলায় এসে তাইজুলের নিচু হওয়া বল বিদায় ঘন্টা বাজায় ম্যাকার্থির।

সিলেট টেস্টের পরিস্থিতি বলছে দ্বিতীয় দিনেও বল কিছুটা টার্ন করবে। সেখানে বাংলাদেশ কেমন অ্যাপ্রোচে খেলে দেখার বিষয়।