দুই দিনেই শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্টে যত রেকর্ড-কীর্তি

By স্পোর্টস ডেস্ক
22 November 2025, 15:32 PM

মাত্র দুই দিনেই ইতি ঘটেছে ঘটনাবহুল ও রোমাঞ্চকর পার্থ টেস্টের। বাউন্সি উইকেটে ইংল্যান্ডের পেসাররা বেশ লড়াই করলেও মিচেল স্টার্কের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ও ট্রাভিস হেডের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে জিতে অ্যাশেজে শুভ সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি জিতে তারা এগিয়ে গেছে ১-০ ব্যবধানে।

অজিদের ৮ উইকেটের জয়ে শনিবার শেষ হওয়া ম্যাচটি জন্ম দিয়েছে দারুণ সব রেকর্ড আর কীর্তির। সেগুলো তুলে ধরা হলো দ্য ডেইলি স্টারের পাঠকদের জন্য:


এখন পর্যন্ত হওয়া ২৬০৮ টেস্টের মধ্যে মাত্র ২৬তম ম্যাচ এটি, যেখানে কেবল দুই দিনেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হলো। এর মধ্যে অ্যাশেজে এটি সপ্তম।

তবে অ্যাশেজে শেষবার দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্ট দেখা গিয়েছিল ১০৪ বছর আগে, ১৯২১ সালে নটিংহ্যামে। উল্লেখ্য, এই ২৬ টেস্টের মধ্যে ১১টিই হয়েছে চলমান একবিংশ শতাব্দীতে।

৮৪৭
এই ম্যাচে মোট বল হয়েছে ৮৪৭টি, ফল হয়েছে এমন টেস্টে যা নবম সর্বনিম্ন। আর অ্যাশেজের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বনিম্ন। এর চেয়ে কম বল হয়েছিল শুধু ১৮৮৮ সালের দুই টেস্টে, যথাক্রমে ৭৮৮টি ও ৭৯২টি।

৬৯
অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে অজিদের জেতানো হেড সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে খেলেন মাত্র ৬৯ বল। অ্যাশেজের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম শতক, আর টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম শতক। সমান সংখ্যক বলে ২০১২ সালে ওয়াকায় ভারতের বিপক্ষে ডেভিড ওয়ার্নারও সেঞ্চুরি করেছিলেন।

বাঁহাতি ব্যাটার হেড একইসঙ্গে গড়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে রান তাড়ায় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আগের কীর্তি ছিল অস্ট্রেলিয়ারই বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গিলবার্ট জেসপের। তিনি ১৯০২ সালে ৭৬ বলে শতক হাঁকিয়েছিলেন ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে।

৭.২৩
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার রানরেট ছিল ৭.২৩, টেস্ট ইতিহাসে যা চতুর্থ ইনিংসে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ। তারা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডেরই রেকর্ড। ২০২২ সালে ট্রেন্টব্রিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওভারপ্রতি ৫.৯৮ রান তুলে ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল ইংল্যান্ড।

১০/১০৩
এই টেস্টে বাঁহাতি পেসার স্টার্কের বোলিং ফিগার। প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৮ রানে ৭ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৩ উইকেট দখল করেন ৫৫ রানে। অ্যাশেজে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার কোনো পেসার ১০ উইকেট পেয়েছিলেন ১৯৯১ সালে, ওয়াকায় ক্রেইগ ম্যাকডারমটের শিকার ছিল ১৫৭ রানে ১১ উইকেট।

starc
ছবি: এএফপি

১২৩
১০ উইকেট পূর্ণ করতে ম্যাচসেরার পুরস্কারজয়ী স্টার্কের লাগে মাত্র ১২৩ বল। টেস্টে এত কম বলে ১০ উইকেট নিতে পারেননি আর কেউ। স্টার্ক টপকে গেছেন পাকিস্তানের ইয়াসির শাহের রেকর্ড। ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৫ বলে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

০/১
পার্থ টেস্টের প্রথম তিন ইনিংসেই (ইংল্যান্ডের দুবার, অস্ট্রেলিয়ার একবার) ওপেনিং জুটি ভাঙে শূন্য রানে। এই সংস্করণের ইতিহাসে এমন ঘটনা এবারই প্রথম।

১০০
ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি অস্ট্রেলিয়ার ১০০তম টেস্ট জয়। আর কোনো দল এক দেশের মাটিতে অন্য কোনো দলের বিপক্ষে এত ম্যাচ জিততে পারেনি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেও আছে তারা। ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের জয় ৫৭ টেস্টে।


এই ম্যাচে পেয়ার বা জোড়া শূন্য রানে আউট হওয়ার তেতো স্বাদ পান জ্যাক ক্রলি। ইংল্যান্ডের সবশেষ ওপেনার হিসেবে কোনো টেস্টে দুই ইনিংসেই রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছিলেন মাইক আথারটন, ১৯৯৯ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।