বায়ার্নের কাছে হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় রিয়াল
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকতে হলে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদের ট্রেডমার্ক 'কামব্যাক' বা প্রত্যাবর্তনের আরেকটি দারুণ গল্প লিখতে হবে। নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেনি দলটি। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
জার্মান জায়ান্টরা ম্যাচে তুলনামূলক ভালো খেললেও, শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারেনি। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের চেনা ছকেই খেলেছে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপের গতির ওপর নির্ভর করে সুযোগ তৈরি করা। আর এই কৌশলেই ঘরের মাঠে হারলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্বপ্ন এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
এদিন হ্যারি কেইনকে মূল একাদশে রেখে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে বায়ার্ন, আর রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের ডি-বক্স থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। সফরকারীদের প্রথম বড় সুযোগটি আসে উপামেকানোর শট থেকে, যা গোললাইন থেকে দারুণভাবে ক্লিয়ার করেন কারেরাস।
রিয়ালের রক্ষণভাগ নিজেদের সেরাটা দিয়ে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও সেট পিসগুলোতে তারা বেশ ভুগছিল। মাঠে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের অভাবে স্বাগতিকরা তাদের সবচেয়ে পরিচিত অস্ত্রে শান দেয় গতি। আর্দা গুলার এবং ফেদে ভালভার্দে যখন পেছন থেকে বল জোগান দিচ্ছিলেন এবং ভিনিসিয়ুস ও এমবাপে দ্রুত দৌড়াচ্ছিলেন, তখন বায়ার্নকে বেশ বিপদেই পড়তে হয়েছিল।
জার্মানরা যখন বল পজেশন ধরে রেখে খেলছিল, রিয়াল মাদ্রিদ তখন কেবল ভিনিসিয়ুস ও এমবাপেকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই সহজ কৌশলেই তারা বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে, তবে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার দুর্দান্ত কিছু সেভ করে দলকে বাঁচান।
অন্যদিকে থিয়াগোর ভুলের পর জিনাব্রির একটি দারুণ সুযোগ রুখে দেন রিয়াল গোলরক্ষক লুনিন। ম্যাচের ওই পর্যায়ে বায়ার্নের বল দখল ও খেলার গতিবিধি দেখে তাদের গোল পাওয়াটা অনিবার্যই মনে হচ্ছিল। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ তো আর সাধারণ নিয়মে চলে না; ন্যূনতম চেষ্টায় তারা যেকোনো মুহূর্তে এগিয়ে যেতে পারে, এমনটা কেউই উড়িয়ে দিতে পারছিল না।
তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা নয়, বায়ার্নই প্রথম জালের দেখা পায়। ৪১ মিনিটে নিজেদের অন্যতম দ্রুতগতির একটি আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নেয় জার্মান দলটি। জিনাব্রির দারুণ এক পাস থেকে ট্রেন্টকে ফাঁকি দিয়ে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন কলম্বিয়ান তারকা লুইস দিয়াজ। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের মরিয়া লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও, মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাথায় আরেকটি ধাক্কা খায় রিয়াল। ওলিসের দুর্দান্ত এক মুভ থেকে ব্যবধান ২-০ করেন হ্যারি কেইন। ম্যাচ, টাই এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সমীকরণ তখন রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
কোচ আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা মাঠে স্কিলের চেয়ে মরিয়া ভাবটাই বেশি দেখাচ্ছিল, যা গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের কিছুটা অসন্তুষ্ট করে। বিশেষ করে নয়্যারের সাথে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে রিয়ালের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করায় ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে দুয়োও শোনা যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ আরবেলোয়া পরিবর্তন আনেন। হুইসেন ও থিয়াগোর বদলে মাঠে নামান এদের মিলিতাও এবং জুড বেলিংহামকে। এরপর আর কোনো উপায় না থাকায় মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে রিয়াল।
অবশেষে ৭৪ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত; আগের দুটি সুযোগ মিস করলেও তৃতীয় দফায় ভুল করেননি এমবাপে। ট্রেন্টের একটি দারুণ ক্রস থেকে বল পেয়ে নয়্যারকে পরাস্ত করেন তিনি। নয়্যার বলটি ফেরালেও তা ততক্ষণে গোললাইন পার হয়ে যায় এবং রেফারি গোলের বাঁশি বাজান। ২-১ গোলে ব্যবধান কমানোর পর মুহূর্তেই গর্জে ওঠে পুরো বার্নাব্যু।
তবে বায়ার্ন একেবারেই ঘাবড়ে যায়নি। উল্টো বেশ কয়েকটি পরিষ্কার সুযোগ হাতছাড়া না করলে তারা তৃতীয় গোলটিও পেয়ে যেতে পারত। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদ আপ্রাণ চেষ্টা করলেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এখন আগামী ১৫ এপ্রিল মিউনিখে এক দুর্দান্ত কামব্যাকের গল্প লিখতে হবে মাদ্রিদিস্তাদের।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া ম্যাচ শেষে একাধিকবার জোর দিয়ে একটি কথাই বলেছেন, 'আমরা এখনও টিকে আছি। টাই সমতায় ফেরাতে আমাদের আর মাত্র একটি গোল দরকার। যেকোনো মাঠে গিয়ে জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে, যা আমরা আগেও প্রমাণ করেছি। ২-০ ব্যবধান টপকে যাওয়াটা বেশ কঠিন হতো।'